চোখের জলে বিদায় নেইমারের, ফুটবল না ছাড়ার আকুতি বাবার

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই হৃদয়বিদারক হারের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন সেলেসাওদের মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম পা রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। দেড় দশক পর এক অদ্ভুত বৃত্ত পূরণের মতো সেই একই মাঠে চোখের জলে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলে ফেললেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেও দলের হার ঠেকাতে পারেননি সান্তোসের এই তারকা।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনে নেইমার বলেন, “আমি সত্যিই আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এখানেই সব শেষ হলো। যে মাঠে আমার শুরু হয়েছিল, আজ সেখানেই শেষ করতে হলো।” ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ভয়াবহ চোট আর অফ ফর্মের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে দলে ফিরে কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষটা বড্ড বিষাদময় হলো। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি তিনি।

নেইমারের এই আকস্মিক বিদায়ের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি ভক্তের মতো স্তব্ধ হয়ে গেছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র। তবে ছেলের এই প্রস্থান মেনে নিতে পারছেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন খোলা চিঠিতে তিনি ছেলেকে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে নেইমারের বাবা লিখেছেন, “আমরা একসাথে এক দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। চলার পথে বাধা এসেছে, কষ্ট এসেছে, কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো ক্লান্তি ছিল না। পায়ে ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখা সেই ছোট্ট ছেলেটাকে ঈশ্বর যে এত দূর নিয়ে আসবেন, তা কখনো ভাবিনি। তবে খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম, তোমার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে।”

ছেলের বর্ণিল ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী থাকা এই পিতা আবেগ মিশিয়ে আরও লিখেছেন, “পুরো পথটায় আমি তোমার পাশে ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম পেশাদার চুক্তি থেকে শুরু করে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া—সবকিছু আমার স্মৃতিতে আজও তাজা। তুমি বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠলে, একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় গর্বের আর কী হতে পারে!”

চিঠির শেষ অংশে ছেলের উদ্দেশ্যে এক আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি লেখেন, “আমরা একসাথে হেসেছি, কেঁদেছি, সাফল্য উদ্‌যাপন করেছি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া আমাদের এই রূপকথা কখনো সম্ভব হতো না। তাই বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার একটাই শেষ অনুরোধ—বাবা, তুমি ফুটবল খেলা ছেড়ো না, খেলাটা অন্তত চালিয়ে যাও।” বাবার এমন আবেগঘন বার্তার পর নেইমার ক্লাব ফুটবলে নিজের বুটজোড়া কতদিন সচল রাখেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন