
টানা ১২ ম্যাচে মাল্টি-গোল: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাস ভেঙে আর্জেন্টিনার নতুন রেকর্ড
বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে বহু কীর্তি আর রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসী। তবে এবার ১৯৩০ সাল থেকে চলে আসা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের পাতা নতুন করে লিখল আলবিসেলেস্তেরা। কানসাস সিটির কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। প্রথমার্ধের মাত্র ১০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙতে সক্ষম হয় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির এক নিখুঁত ও বাঁকানো কর্নার কিক থেকে পেনাল্টি বক্সে দারুণ এক হেডারে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্তার। চলতি টুর্নামেন্টে মেসি নিজে গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে থাকলেও, এই ম্যাচে গোল না পেলেও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন। তবে গোল খাওয়ার পর দমে যায়নি সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধের বাকি সময় এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তারা বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে। সেই ধারায় ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড দান এনদোয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো দলই জয়সূচক গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সুইসরা, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের এক খেলোয়াড়কে। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত এক কার্লিং শট সুইস গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এর কিছুক্ষণ পর লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ফিনিশিং সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দেয় এবং আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
এই ৩-১ ব্যবধানের জয়ের মাধ্যমেই ফুটবল বিশ্ব দেখল এক নতুন ইতিহাস। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল টানা ১২টি ম্যাচে অন্তত দুটি বা তার বেশি গোল করার অনন্য গৌরব অর্জন করল। এর আগে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে টানা ১১টি ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার রেকর্ড গড়েছিল উরুগুয়ে। বিগত ৭২ বছর ধরে অক্ষত থাকা উরুগুয়ের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে এখন এককভাবে চূড়ায় বসল আর্জেন্টিনা। বর্তমান শিরোপাধারীদের জন্য এই জয় এবং রেকর্ড দুটিই অত্যন্ত স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। নিজেদের এই অবিশ্বাস্য গোলের ধারা বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।