
দূরত্বের সীমানা পেরিয়ে: বাংলাদেশকে জয়ের হাসি উপহার দিতে চান স্কালোনি
আকাশপথে লাতিন আমেরিকার ফুটবলের স্বর্গরাজ্য আর্জেন্টিনা থেকে সুদূর বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৬ হাজার ৭৮০ কিলোমিটার। ভৌগোলিক এই বিশাল ব্যবধান কিংবা ভাষার প্রাচীর ফুটবলের জাদুকরী টানে মুহূর্তেই উবে গেছে। আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল খেলতে নামবেন লিওনেল মেসিরা, তখন এই হাজার মাইলের দূরত্ব আর কোনো বাধা হয়ে থাকবে না। হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও কোটি কোটি বাংলাদেশী সমর্থক আকাশী-নীল জার্সি গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলের জন্য প্রার্থনায় বসবেন।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই নিঃশর্ত, অবিরাম ও আবেগী ভালোবাসা আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। আর তাই এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশকে একটি দুর্দান্ত জয় উপহার দিতে চান ৪৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড কোচ।
বাংলাদেশী ভক্তদের জন্য স্কালোনির বিশেষ বার্তা
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের মহাযুদ্ধে নামার ঠিক আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্কালোনি বাংলাদেশের সমর্থকদের অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান। অত্যন্ত আবেগের সাথে তিনি বলেন:
“বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই আমাদের নতুন করে চমকে দেয়। ভৌগোলিক দিক থেকে এত দূরে থেকেও তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে মনে-প্রাণে সমর্থন করে যাচ্ছে, তা সত্যিই অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য। নিজের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সুদূর অন্য একটি দেশের মানুষকে আমাদের জার্সি পরে গলা ফাটাতে দেখাটা ভীষণ গর্বের। এই অতুলনীয় ভালোবাসার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাই।”
স্কালোনি আরও জানান, মাঠের প্রতিটি লড়াইয়ে নামার আগে ভক্তদের এই অবিশ্বাস্য উন্মাদনা তাঁদের মানসিক শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই আজকের ম্যাচে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের অগণিত ভক্তদের খুশির জোয়ারে ভাসানোই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
মার্তিনেজের চোখে বাংলাদেশিরা “মনে-প্রাণে আর্জেন্টাইন”
শুধু কোচ স্কালোনিই নন, আর্জেন্টিনার গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বুকেও রয়েছে বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ জায়গা। বিগত সময়ে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া এই গোলরক্ষক খুব কাছ থেকে এ দেশের মানুষের অতুলনীয় আতিথেয়তা ও ফুটবল উন্মাদনা নিজের চোখে দেখে গেছেন।
বাংলাদেশি সমর্থকদের সেই অভূতপূর্ব ভালোবাসার কথা স্মরণ করে মার্তিনেজ বলেন, “বাংলাদেশ এবং ওখানকার ফুটবল পাগল সমর্থকদের আমি গভীরভাবে ভালোবাসি। আমাদের জন্য তাঁদের পাগলামি আসলেই অন্য স্তরের। আমি নিজে সেখানে গিয়ে স্বচক্ষে তাঁদের এই নিখাদ আবেগ প্রত্যক্ষ করেছি। আমার তো মনে হয়, কোনো না কোনোভাবে তারা সবাই আসলে মনে-প্রাণে একেকজন আর্জেন্টাইন।”
দেশজুড়ে টানটান উত্তেজনা ও নতুন ফুটবল উৎসব
আজকের এই সেমিফাইনাল ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, টিএসসি মোড় থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানগুলো এখন তুমুল মুখরিত। বাড়ির ছাদে ওড়ানো হচ্ছে আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল পতাকা, কোথাও কোথাও বসানো হচ্ছে বড় পর্দা (জায়ান্ট স্ক্রিন)। কাতার বিশ্বকাপের সময় থেকে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক উন্মাদনা আজ রাতে আরও একবার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। স্কালোনির শিষ্যরা মাঠের লড়াইয়ে সফল হয়ে বাংলাদেশের কোটি ভক্তের মুখে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি ফোটাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।