নারী ফুটবলে সাবিনার অসাধারণ প্রথমের গল্প

সেই চিরচেনা হাসি, সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী গোল, গোল করার পর দু’হাত প্রসারিত করে উদ্‌যাপন—ফুটবলের সাবিনা আর ফুটসালের সাবিনার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া দায়। ২০২২ সালের সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি একের পর এক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। চার বছর পর, ফুটসালেও একই সাবিনার জাদু দেখা গেছে।

যদিও ফুটবল ও ফুটসালের মাঠের দৈর্ঘ্য, নিয়মাবলী ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা ভিন্ন, তবে সাবিনা তার নির্ভুল গোলদানের এবং নেতৃত্ব প্রদানের দক্ষতা আগের মতোই দেখিয়েছেন। বাংলাদেশও ২০২৬ সালের প্রথম সাফ উইমেন্স ফুটসাল টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে।

সাবিনার নাম ‘প্রথমের’ সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। দেশের নারী ফুটবলে বড় অর্জনগুলোতে তার অবদান অসীম—দু’বার সাফ জয়, দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে (এসএ) দুটি ব্রোঞ্জপদক। বিশেষ করে ২০২২ সালে নেপালে প্রথমবার সাফ শিরোপা জয়ের মুহূর্তে অধিনায়ক হিসেবে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করেন।

২০১০ সালের এসএ গেমসে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম ব্রোঞ্জপদক জেতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ঢাকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের সামনে সাবিনাই গোল করে দলকে জয় নিশ্চিত করেছিলেন। একই বছর নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেও তিনি খেলেছিলেন।

নিচের টেবিলে সাবিনার উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:

বছরটুর্নামেন্টঅর্জনলক্ষ্য/গোলভূমিকা
২০১০এসএ গেমসব্রোঞ্জপদক১–২ গোলদলের গুরুত্বপূর্ণ গোলদাতা
২০১০প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচঅংশগ্রহণ১ গোলঅভিষেক ম্যাচে নেতৃত্ব প্রদর্শন
২০২২সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপসাফ জয়৮ গোলসর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড়
২০২৬সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপসাফ জয়১৪ গোলসর্বোচ্চ গোলদাতা ও অধিনায়ক

কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি সাবিনা। তবে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি হারিয়ে যাননি। ২০২৫ সালে ভুটান ফুটবল লিগে খেলে মাঠে ফিরে আসেন, পরে ফুটসাল জাতীয় দলে নাম লেখান এবং সর্বশেষ সাফ ফুটসালে ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল সাবিনার প্রশংসা করেছেন, বলেন, “বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে ফুটবল ও ফুটসাল—দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় আমরা গর্বিত।”

শেষ ম্যাচের পর টিম হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর ব্যাংককের নন্থাবুরি স্টেডিয়ামে ফিরে তিনি সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। সাফ সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন থেকে পদক ও ট্রফি গ্রহণের সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন সাবিনা। ট্রফি শেষ পর্যন্ত নিজের হাতে ধরে রাখেন, যা তার কাছে ফুটবলের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক থেকে ২০২৬ সালের সাফ ফুটসাল জয়—এখনো তিনি নতুন ‘প্রথমের গল্প’ রচনা করছেন। দেশের নারী ফুটবল ও ফুটসালে সাবিনার নাম মানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাফল্য এবং নেতৃত্বের প্রতীক।

Leave a Comment