
প্রথমার্ধেই ব্রবির জোড়া গোলে ব্যাকফুটে সুইডিশ দল
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে শনিবার (২০ জুন) হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘এফ’ গ্রুপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডাচ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবির চমৎকার জোড়া গোলের ওপর ভর করে সুইডেনের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের স্পষ্ট আধিপত্য নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করেছে নেদারল্যান্ডস। খেলার প্রথমভাগেই ডাচরা ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হলেও প্রথমার্ধের শেষদিকের সময়টাতে বেশ কয়েকটি নিশ্চিত ও বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করেছিল সুইডেন। তবে স্ট্রাইকার ও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় এবং ডাচ রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তারা শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। ফলে দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয়েছে সুইডিশ ফুটবল দলকে।
Table of Contents
আক্রমণাত্মক সূচনা ও ম্যাচের প্রথম গোলের বিবরণ
হিউস্টনের মাঠে ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর থেকেই নেদারল্যান্ডস দল অত্যন্ত উচ্চ প্রেসিং ও দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কৌশল অবলম্বন করে। ডাচ ফুটবলারদের এই আগ্রাসী রণকৌশলের মুখে শুরু থেকেই বেশ চাপে পড়ে যায় সুইডেনের রক্ষণভাগ। নেদারল্যান্ডসের এই মুহূর্মুহু আক্রমণের ফলও আসে ম্যাচের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় তথা প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই।
খেলার ৬ মিনিটে তিজানি রেইন্ডার্সের চমৎকারভাবে তৈরি করা একটি আক্রমণাত্মক মুভ থেকে কোডি গাকপো বলের নিয়ন্ত্রণ নেন। গাকপো সুইডিশ ডি-বক্সের ভেতরে নিখুঁত এক পাস বাড়ান ব্রায়ান ব্রবির উদ্দেশ্যে। ডি-বক্সের ভেতর অত্যন্ত কাছাকাছি দূরত্ব থেকে বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি ব্রবি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড।
ডাচদের আধিপত্য ও ব্রবির জোড়া গোল সম্পন্ন
প্রথম গোলটি পাওয়ার পরও ডাচ ফুটবল দল তাদের আক্রমণের গতি ও ধার বিন্দুমাত্র কমায়নি। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টার জুড়েই নেদারল্যান্ডসের ডেনজেল ডামফ্রিস ও ডনিয়েল মালেন মাঠের ডান প্রান্ত ব্যবহার করে বারবার সুইডিশ রক্ষণভাগে গভীর ভীতি ছড়াতে থাকেন।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে এই দুই ফুটবলারের দুর্দান্ত বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের ফলেই আসে নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় গোলটি। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে ডামফ্রিস ও মালেনের তৈরি করা একটি যৌথ সুযোগকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাজে লাগান ব্রায়ান ব্রবি। সুইডিশ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তিনি ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন। এর ফলে ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটের মধ্যেই নেদারল্যান্ডস দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
সুইডেনের পাল্টা আক্রমণ ও অফসাইডের হতাশা
টানা দুই গোল হজম করার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইডেন। প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটে তারা ডাচ রক্ষণভাগের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে এবং বেশ কয়েকটি ভালো গোল করার সুযোগ তৈরি করে।
এই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৪৫ মিনিটে সুইডেনের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা ডাচদের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে সুইডিশ শিবিরের সেই উল্লাস বেশি সময় স্থায়ী হয়নি, কারণ লাইন্সম্যানের অফসাইডের সংকেতের কারণে মাঠের রেফারি গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে গোল পরিশোধের একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চরম হতাশায় ডুবতে হয় সুইডেন দলকে।
যোগ করা সময়ের উত্তেজনা ও ডাচ গোলরক্ষকের প্রাচীর
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি কর্তৃক নির্দেশিত যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) সুইডেন তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই সময়ে তারা ডাচ গোলপোস্ট লক্ষ্য করে পরপর দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ চালায়।
প্রথমত, সুইডিশ তারকা ভিক্টর গিওকেরেসের নেওয়া একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ফ্রি-কিক সরাসরি ডাচ গোলপোস্টের দিকে ছুটে যায়। তবে নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই ফ্রি-কিকটি রুখে দেন। এর ঠিক পর মুহূর্তেই সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির নেওয়া একটি নিচু ও জোরালো শটও চমৎকার ডাইভে প্রতিহত করেন ডাচ গোলরক্ষক। গোলরক্ষকের এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সুইডেন প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও কোনো গোল আদায় করতে পারেনি, যার ফলে নেদারল্যান্ডস ২-০ ব্যবধানের লিড অক্ষুণ্ণ রেখেই মাঠ ছাড়ে।