
ফিফার ঘুসকাণ্ডে নতুন মোড়, বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দুই আর্জেন্টাইনের
বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে দুর্নীতির কালো মেঘ যেন কাটছেই না। ইতিহাসের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির এক দশক পেরিয়ে গেলেও এর রেশ এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনকে। এর মাঝেই নতুন করে সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের সম্প্রচারস্বত্ব হাতিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফা ও এর অধীনস্থ আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুস দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার দুই প্রভাবশালী স্পোর্টস মার্কেটিং কর্মকর্তা।
বহু বছর ধরে চলা এই বিচারপ্রক্রিয়ায় এবার এসেছে বড় ধরনের মোড়। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস। সম্পর্কে তারা পিতা-পুত্র। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে তারা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, ফুটবলের লোভনীয় সম্প্রচারস্বত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সেসময় তারা ফিফার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লাখ লাখ মার্কিন ডলার উৎকোচ দিয়েছিলেন।
পিতা-পুত্রের মালিকানাধীন স্পোর্টস মার্কেটিং কোম্পানি ‘ফুল প্লে’-এর মাধ্যমে এই অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। মূলত ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ এবং দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকার সম্প্রচারস্বত্ব বাগিয়ে নেওয়ার জন্যই এই বিশাল অঙ্কের ঘুস দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করে মার্কিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটছেন তারা। শাস্তি এড়াতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দুই আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সমান।
ফিফাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির এই কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৭ মে। সুইজারল্যান্ডের জুরিখের একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল থেকে মার্কিন বিচার বিভাগের কড়া অনুরোধে ফিফার সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আকস্মিক গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল গোটা ফুটবলবিশ্ব। পরবর্তীতে দুর্নীতির দায়ে তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে তার দীর্ঘ পদ হারাতে হয়েছিল। ফিফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনমেবল)-এর শীর্ষ স্তরে ঘুস ও অর্থপাচারের যে জাল বিস্তৃত হয়েছিল, তার তদন্ত এখনো আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কার্যকাল ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা বিতর্ক এবং অনিয়মের অভিযোগের গুঞ্জন চলছে। বিশ্বকাপের সফল আয়োজন ও নানা জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের পরও ফিফার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে আর্জেন্টাইন পিতা-পুত্রের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফিফার ভাবমূর্তিকে নতুন করে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিল। ফুটবলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে সমর্থকদের মনে আবারও জমা হয়েছে গভীর সংশয়।