বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এক দশক পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে এক অভিনব ও চমকপ্রদ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইনফান্তিনোর দায়িত্ব পালনের ১০ বছর পূর্ণ হয়। এই মাহেন্দ্রক্ষণে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং রসিকতা বা সদিচ্ছার ছলে তাঁকে আরও দীর্ঘ সময় ফিফার শীর্ষ পদে দেখার খায়েশ প্রকাশ করেন।
Table of Contents
ট্রাম্পের শুভেচ্ছা ও সুসম্পর্কের রসায়ন
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বার্তায় লিখেছেন, “ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১০ বছর পূর্ণ করায় জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অভিনন্দন। তিনি একজন অসাধারণ নেতা! আমি আশা করি তিনি সেখানে আরও ১০, ২০ বা ৩০ বছর থাকবেন।” উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। এই বিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি মজবুত ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সেই বন্ধুত্বেরই একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ফিফায় ইনফান্তিনোর উত্থান ও বিবর্তন
২০১৬ সালে ফিফা যখন দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত, তখন এক ক্রান্তিকালে দায়িত্ব নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটার ১৭ বছরের শাসনের পর দুর্নীতির দায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই সময়ে উয়েফা প্রধান মিশেল প্লাতিনিও নিষিদ্ধ হন। সেই সময় উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ইনফান্তিনো বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়ী হন। এরপর ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হন।
পদের মেয়াদ ও আইনি মারপ্যাঁচ
সেপ ব্লাটারের দীর্ঘমেয়াদি শাসনের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে ফিফা কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, কোনো ব্যক্তি তিন মেয়াদের (সর্বোচ্চ ১২ বছর) বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না। তবে ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ আইনি ব্যাখ্যা তৈরি করা হয়েছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় ফিফা কাউন্সিল জানায়, ইনফান্তিনোর প্রথম মেয়াদের (২০১৬-২০১৯) সময়কালটি এই ১২ বছরের সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ তিনি ব্লাটারের অসম্পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর ফলে ২০২৭ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচনের সুযোগ পাবেন এবং জয়ী হলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর মেয়াদকাল একনজরে
| পর্যায় | সময়কাল | মন্তব্য |
| প্রথম মেয়াদ | ২০১৬ — ২০১৯ | সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে অসম্পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ। |
| দ্বিতীয় মেয়াদ | ২০১৯ — ২০২৩ | পূর্ণ মেয়াদে প্রথমবার পুনর্নির্বাচিত হওয়া। |
| তৃতীয় মেয়াদ | ২০২৩ — ২০২৭ | চলমান মেয়াদ, যেখানে ফুটবলের বিশ্বায়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন। |
| সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদ | ২০২৭ — ২০৩১ | আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটিই হবে তাঁর শেষ সম্ভাব্য মেয়াদ। |
ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা বনাম ফিফার সংবিধান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে আরও ৩০ বছর ক্ষমতায় দেখার আশা ব্যক্ত করলেও ফিফার বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তা প্রায় অসম্ভব। ২০৩১ সালে ইনফান্তিনোর ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনের সমাপ্তি ঘটার কথা। যদিও ফুটবল রাজনীতিতে যেকোনো সময় নিয়ম পরিবর্তনের নজির রয়েছে, তবুও গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখতে ফিফা মেয়াদের সীমাবদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করতে চায়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে যেমন হাসির খোরাক জুগিয়েছে, তেমনি ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্লাটার পরবর্তী যুগে ফিফাকে আর্থিকভাবে লাভজনক সংস্থায় পরিণত করার কৃতিত্ব ইনফান্তিনোর থাকলেও, বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানো এবং ক্লাব বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানের অকুণ্ঠ সমর্থন নিশ্চিতভাবেই ইনফান্তিনোর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
