ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত শোক ও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। পরিবারের খোঁজে দেওয়া তার আবেগঘন বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সময় ২৪ জুন রাতে ভেনেজুয়েলায় একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.২ এবং ৭.৫। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সংঘটিত এই দুই ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে। সরকারি ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বহু ভবন ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার কথাও বলা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
এই বিপর্যয়ের মধ্যেই সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৩৮ বছর বয়সী লুকাস ত্রেহো। তিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরার হয়ে খেলছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস করায় ভেনেজুয়েলাই তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ভূমিকম্পে প্লায়া গ্রান্দে এলাকায় তার বসবাসের ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভবন ধসের সময় তারা ভেতরে ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি ত্রেহো। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি সাহায্যের আবেদন জানান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “আমাদের ভবনটি প্লায়া গ্রান্দেতে ধসে পড়েছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। কেউ যদি তাদের দেখে থাকেন, এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা তখন ভেতরে ছিলেন না।”
তার এই আবেদন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকরা তার পরিবারের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা ও সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকেই উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত খুঁজে বের করা যায়।
এদিকে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছে। ভারী কংক্রিট, ইট ও ধাতব কাঠামো সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু একটি দেশের সীমায় আটকে থাকেনি, বরং মানবিক শোকের একটি বৈশ্বিক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর একজন ফুটবলারের পরিবারের অজানা ভবিষ্যৎ এখনো উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে, যার প্রতীক্ষায় আছেন তার পরিবার, সতীর্থ ও অসংখ্য সমর্থক।
