এক সময় স্কুলের মাঠ মানেই ছিল শিশুর উল্লাস আর বলের লাফানো শব্দ। সূর্য ডোবে, তারপরই খেলার সমাপ্তি। কিন্তু আজ সেই মাঠগুলো নিস্তব্ধ—শিশুরা বন্দী মোবাইল আর ট্যাবের পর্দায়।
আধুনিক শহর গড়ে উঠেছে মাঠের জায়গা দখল করে। ঢাকায় থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত খোলা জায়গা পাওয়া দুষ্কর। অভিভাবকেরা হতাশ—তাদের সন্তানরা খেলতে পারে না জায়গার অভাবে।
এই শূন্যতাই জন্ম দিয়েছে ফুটসালের মতো ইনডোর খেলার।
ফুটসালের উত্থান
২০০০ সালের দিকে শহরজুড়ে জনপ্রিয় হতে থাকে ফুটসাল। ছোট জায়গায় কৃত্রিম ঘাসে খেলা হয় পাঁচজনের দলে।
কর্মজীবী রেজাউল ইসলাম বলেন, “গ্রামে প্রতিদিন ফুটবল খেলতাম, এখন সহকর্মীদের নিয়ে ফুটসাল খেলি। এতে প্রশান্তি পাই।”
তিনি জানান, “আমরা সন্ধ্যায় খেলি, কারণ দিনে গরমে খেলা যায় না।”
ইনডোর মাঠের অর্থনীতি
ব্যবসায়ীরা অব্যবহৃত জায়গায় টার্ফ ও ফ্লাডলাইট বসিয়ে ঘণ্টাভিত্তিক ভাড়া দেন। খরচ ৯০ মিনিটে দেড় থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থাকে সবচেয়ে বেশি বুকিং।
‘ইকো স্পোর্টস’-এর মালিক সাজ্জাদুল আলম জানান, “চট্টগ্রামে মাঠ কম, কিন্তু খেলার আগ্রহ অনেক। প্রতিদিন ছয়-সাতটি দল আসে খেলতে।”
প্রকল্পে জমি, টার্ফ ও অবকাঠামোতে খরচ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রতি দুই-তিন বছর পর টার্ফ বদলাতে হয়।
ঢাকায় বর্তমানে ২০টির বেশি টার্ফ মাঠ রয়েছে—যেমন ‘অফসাইড’, ‘জাফ’ ও ‘দ্য স্টেডিয়াম’। বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থাকে দর্শক আর খেলোয়াড়ে সরগরম পরিবেশ।
ফুটসাল এখন শহুরে জীবনের বিনোদন ও সামাজিক মিলনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু।
টিএসএন
