
মায়ামিতে ব্রোঞ্জের লড়াই আজ: কী বলছে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড সমীকরণ?
বিশ্বকাপ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ঠিক আগের মঞ্চটি এখন প্রস্তুত। সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ভুলে টুর্নামেন্ট শেষ করার অন্তিম লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি—ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ফরাসিরা, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় থ্রি-লায়ন্সদের। এখন সান্ত্বনার ট্রফি আর টুর্নামেন্টে নিজেদের মান ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠের লড়াইয়ে নামছে কিলিয়ান এমবাপে ও হ্যারি কেইনের দল।
শনিবার (১৮ জুলাই) মিয়ামির বিখ্যাত হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় শুরু হয় হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন—কে হাসবে শেষ হাসি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বরাবরের মতোই ডেটা ও পরিসংখ্যানের নিখুঁত বিশ্লেষণ নিয়ে হাজির হয়েছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অপ্টা। তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটার ম্যাচের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে। সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সের জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি, যা প্রায় ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২৫ দশমিক 6 শতাংশ। আর নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি অমীমাংসিত বা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের চতুর্থ দ্বৈরথ। এর আগের তিনবারের দেখায় পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে ইংলিশরা। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৮২ সালের বিশ্বমঞ্চেও ফরাসিদের ৩-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দেয় থ্রি-লায়ন্সরা। তবে দল দুটির সর্বশেষ লড়াইের স্মৃতিটা ফরাসিদের জন্য দারুণ সুখকর। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে দিয়েছিল ফ্রান্স। ফলে আজকের ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য যেমন প্রতিশোধের, ফ্রান্সের জন্য তেমনি আধিপত্য ধরে রাখার।
শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জেতার লড়াই এটি নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ও সম্মান। এই ম্যাচে যে দল জয়ী হবে, তাদের গলায় উঠবে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক। এর পাশাপাশি সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী দল ঘরে তুলবে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। আর রানার্সআপ হয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকা দলটির পকেটে যাবে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। আর্থিক পুরস্কারের বাইরেও এই ম্যাচের জয়-পরাজয় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দল দুটির অবস্থানের ওপর বেশ বড় প্রভাব ফেলবে। মাঠের লড়াইয়ে সুপারকম্পিউটারের এই ডেটা কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।