মাস্তানতুয়োনোকে নিয়ে মাদ্রিদের ধাঁধা

রিয়াল মাদ্রিদ—ইউরোপীয় ফুটবলের আভিজাত্যের প্রতীক। সেই ক্লাবেই বড় স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার উদীয়মান প্রতিভা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। আর্জেন্টাইন জায়ান্ট রিভার প্লেট থেকে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে গত গ্রীষ্মে তাঁকে দলে ভেড়ায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তাঁকে ভাবা হচ্ছিল ভবিষ্যতের মাঝমাঠের স্থপতি হিসেবে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে বাস্তবতা হয়ে উঠেছে ভিন্ন—বার্নাব্যুর বেঞ্চই যেন তাঁর নতুন ঠিকানা।

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

শুরুতে কোচ জাবি আলোনসো-এর অধীনে কিছুটা সুযোগ পেয়েছিলেন মাস্তানতুয়োনো। তাঁর বল কন্ট্রোল, পাসিং রেঞ্জ ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল—তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। কিন্তু চোট-আঘাত ছন্দ নষ্ট করে দেয়। এরপর কৌশলগত পরিবর্তন ও স্কোয়াড রোটেশনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে থাকেন এই তরুণ।

সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল ৮ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্সিয়া-র বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে। খেলেছিলেন মাত্র ৯ মিনিট। এরপর টানা কয়েক ম্যাচে তিনি মাঠেই নামেননি। এমনকি ওসাসুনা-র বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচেও গোলের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নামানো হয়নি।

নিচে তাঁর সাম্প্রতিক উপস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—

প্রতিপক্ষফলাফলমাঠে নামার সময়মন্তব্য
ভ্যালেন্সিয়া২-০ জয়৯ মিনিটসর্বশেষ খেলা
ওসাসুনা১-২ হারমাঠে নামেননিবেঞ্চে
পরবর্তী ২ ম্যাচমিশ্র ফলমাঠে নামেননিটানা অনুপস্থিতি

আর্জেন্টিনার উদ্বেগ

মাস্তানতুয়োনোর এই অনিশ্চয়তা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে আর্জেন্টিনায়ও। সামনে স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। নিয়মিত খেলার অভাবে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় দলও ভুগতে পারে।

আর্জেন্টিনার সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার নরবার্তো আলোনসো তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “ওরা ছেলেটাকে শেষ করে দিচ্ছে। সুযোগ না দিলে সে নিজেকে প্রমাণ করবে কীভাবে?” তাঁর মন্তব্য আর্জেন্টাইন ফুটবল মহলে আলোড়ন তুলেছে।

ভুল সিদ্ধান্ত?

জানুয়ারির দলবদলে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন নাপোলি তাঁকে ধারে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল। নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু মাস্তানতুয়োনো থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন—বার্নাব্যুতেই লড়ে যাওয়ার অঙ্গীকারে। এখন প্রশ্ন উঠছে, সিদ্ধান্তটি কি অকালপক্ব ছিল?

বর্তমান কোচ আলভারো আরবেলোয়া মাঝমাঠে চারজনের রক্ষণাত্মক কাঠামোতে আস্থা রাখছেন। অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দিচ্ছেন, বিশেষত সাম্প্রতিক খারাপ ফলের পর ঝুঁকি কমাতে চাইছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরত আসা খেলোয়াড়দের ভিড়ে তরুণ প্লে-মেকারের জায়গা আরও সংকুচিত হয়েছে।

শেষ প্রশ্ন

৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিনিয়োগ কি তবে বেঞ্চেই পড়ে থাকবে? নাকি সময়ই বদলে দেবে চিত্রনাট্য? প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই—প্রশ্ন কেবল সুযোগের। বার্নাব্যুর ডাগআউট থেকে কি তিনি আবার মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারবেন?

উত্তর লুকিয়ে আছে কোচের কৌশলে, আর সময়ের হাতে।

Leave a Comment