
লেস্টার ছাড়ার পথে হামজা, নতুন ঠিকানা ডার্বি?
দীর্ঘদিনের পরিচিত লেস্টার সিটির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে নতুন ঠিকানায় যেতে পারেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে। হামজাকে ঘিরে দলবদলের বাজারে নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর দলবদলবিষয়ক প্রতিবেদক মাইক ম্যাকগ্রার এক প্রতিবেদনে হামজাকে নিয়ে ডার্বি কাউন্টির আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। মাঝমাঠের শক্তি বাড়াতেই মূলত বাংলাদেশের এই ফুটবলারকে নিজেদের পরিকল্পনায় রেখেছে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি।
তবে হামজার ডার্বিতে যাওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। দুই ক্লাবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, কিংবা লেস্টারের কাছে ডার্বি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না—সেসব বিষয়ও এখনো স্পষ্ট নয়। হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়া হবে, নাকি ধারের চুক্তিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে, সেটিও জানা যায়নি।
হামজার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ লেস্টার সিটির সঙ্গে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ফলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে বিক্রি করতে চাইলে লেস্টারের জন্য এটিই গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে পারে। কারণ সময় যত গড়াবে, চুক্তির মেয়াদ তত কমবে এবং খেলোয়াড় বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য অর্থ পাওয়ার সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে।
দুই দলের বর্তমান অবস্থানও হামজার সম্ভাব্য দলবদলকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। লেস্টার সিটি বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে। অন্যদিকে ডার্বি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে রয়েছে, যা ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর। ডার্বিতে যোগ দিলে হামজা লেস্টারের তুলনায় এক ধাপ উঁচু প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবেন।
ডার্বির আগ্রহের অন্যতম কারণ হতে পারে হামজার বহুমুখী খেলার সামর্থ্য। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তার মূল ভূমিকা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী রাইট-ব্যাক পজিশনেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে একজন খেলোয়াড় দিয়ে একাধিক জায়গার ঘাটতি পূরণের সুযোগ পাবে দলটি।
লেস্টারের যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠা হামজা ২০১৫ সালে ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক করেন। এরপর ধারের চুক্তিতে বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর গত মৌসুমে আবার লেস্টার সিটিতে ফেরেন তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও হামজার সম্ভাব্য দলবদলটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে তার ক্লাবের প্রতিযোগিতামূলক মান ও নিয়মিত খেলার সুযোগ জাতীয় দলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত হামজা, লেস্টার সিটি কিংবা ডার্বি কাউন্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ডার্বির আগ্রহকে আপাতত সম্ভাব্য দলবদলের আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে দুই ক্লাবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা প্রস্তাবের অগ্রগতি হলে হামজার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।