
শিক্ষার তহবিলে মেসির জার্সি ও শাকিরার পোশাক নিলামে তুলছে ক্রিস্টিজ
বিশ্বকাপ ফুটবলের অবিস্মরণীয় সব স্মারক নিয়ে নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী নিলাম প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিজ এক বিশেষ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির অটোগ্রাফ দেওয়া জার্সি থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যবহৃত ম্যাচ বল এবং পপ তারকা শাকিরার পারফর্ম করার পোশাক—সবই উঠছে এই আন্তর্জাতিক নিলামে। ‘ওয়ান গোল চ্যারিটি অকশন’ শীর্ষক এই অনলাইন নিলামটি আগামী ২২ জুলাই শুরু হয়ে চলবে টানা এক সপ্তাহ। ফিফা ও আন্তর্জাতিক মানবকল্যাণমূলক সংস্থা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়ন। বিশ্বকাপ চলাকালেই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আয়োজক সংস্থাগুলো।
নিলামে সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট সম্পর্কিত ৪০টিরও বেশি দুর্লভ ও ঐতিহাসিক স্মারক প্রদর্শিত ও বিক্রি করা হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীদের পরা পারফরম্যান্স কস্টিউম, বিশ্বসেরা ফুটবলারদের স্বাক্ষরিত জার্সি এবং ঐতিহাসিক সব ম্যাচের অফিসিয়াল ফুটবল। ইতিমধ্যই টুর্নামেন্টের ফাইনালের বিরতিতে কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর জনপ্রিয় গায়ক জিমিনের পরা জার্সিটি সর্বোচ্চ দরদাতাদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ব্যবহৃত অফিসিয়াল বলটির ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ডলার। নিলামে সংগ্রাহকদের প্রতিযোগিতার কারণে এই বলটির মূল দর ভিত্তিমূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে কলম্বিয়ান পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার ব্যবহৃত দুটি বিশেষ পোশাক। এর একটি হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’-এর মিউজিক ভিডিওতে তার পরা সেই বিশেষ হলুদ রঙের ক্রপ টপ ও ট্রাউজার। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফাইনালের বহুল আলোচিত হাফটাইম শোতে শাকিরা যে পোশাক পরে মঞ্চ মাতাবেন, সেটিও এই নিলামে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। ১১ মিনিটের এই জমকালো ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শাকিরার সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন পপ আইকন ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস। আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুরাগীদের জন্য থাকছে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের সব খেলোয়াড়ের যৌথ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারক জার্সি, যা সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ কদর পাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের এমন সব স্মরণীয় মুহূর্তকে সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগানোর এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।