ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩–০ গোলের সহজ জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই ম্যাচে সিটির হয়ে গোল করেন আন্তোনে সেমেনিও, ওমর মারমুশ এবং সাভিনিও। ম্যাচটি ঘিরে নজর ছিল আর্সেনালের দিকেও, কারণ পেপ গার্দিওলার দল যদি কোনোভাবে পয়েন্ট হারাত, তবে আর্সেনালের ২২ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যেত।
কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তব হয়নি। সিটির জয়ে শিরোপা লড়াই শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকল। এই ফলাফলের পরও প্রতিযোগিতা পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে, যেখানে দুই দলের পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত নির্ধারক হয়ে উঠবে।
এই ম্যাচে জয় না পেলে ম্যানচেস্টার সিটি পয়েন্ট হারাত, আর তখনই আগামী সোমবার বার্নলির বিপক্ষে জয় পেলেই আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু সিটির জয় সেই সমীকরণকে আপাতত স্থগিত রেখেছে।
বর্তমান অবস্থায় শিরোপা লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ আর্সেনালের হাতে থাকলেও, সমীকরণ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আর্সেনাল যদি তাদের বাকি দুই ম্যাচ জিতে যায়, তবে কোনো হিসাব ছাড়াই তারা চ্যাম্পিয়ন হবে। তবে এর মধ্যে কোনো ম্যাচে পয়েন্ট হারালে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গত ম্যাচের পর ম্যানচেস্টার সিটি ৩৬ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। একই সংখ্যক ম্যাচে আর্সেনাল ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে পয়েন্ট সমান হলে নির্ধারণী বিষয় হবে গোল ব্যবধান। এই দিক থেকে খুবই কাছাকাছি অবস্থানে দুই দল।
বর্তমানে সিটির গোল ব্যবধান +৪৩, আর আর্সেনালের +৪২। অর্থাৎ মাত্র এক গোলের ব্যবধান পুরো লিগের শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রতিটি গোল এখন অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
নীচে বর্তমান শীর্ষ দুই দলের অবস্থান দেওয়া হলো—
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট | গোল ব্যবধান |
|---|---|---|---|
| আর্সেনাল | ৩৬ | ৭৯ | +৪২ |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ৩৬ | ৭৭ | +৪৩ |
আগামী শনিবার এফএ কাপ ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে ম্যানচেস্টার সিটি দলে বড় পরিবর্তন আনে। কোচ পেপ গার্দিওলা একাদশে ছয়টি পরিবর্তন করেন এবং আর্লিং হলান্ড, রায়ান চেরকি ও জেরেমি ডকুর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেন।
ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া মন্তব্যে গার্দিওলা বলেন, শিরোপা লড়াই সম্পূর্ণভাবে প্রতিপক্ষ দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, আর্সেনাল যদি বাকি দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না। তার মতে, সিটির কাজ হলো লড়াইয়ে টিকে থাকা এবং সুযোগ এলে তা কাজে লাগানো।
এছাড়া তিনি এফএ কাপ ফাইনাল নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, দ্রুত বিশ্রাম নিয়ে দলকে ফাইনালের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে হবে। এফএ কাপকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং আগের দুই ফাইনালে হারের অভিজ্ঞতা থেকে দল আরও ভালো করার চেষ্টা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
