সেরা কোচ খুঁজছে জাতীয় দল, আশ্বাস দিচ্ছে প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ নিয়োগকে ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে। স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ কে হচ্ছেন, সেটিই এখন ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল এবং সমর্থকদের প্রধান আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জাতীয় দলের জন্য সম্ভাব্য সেরা কোচ নিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাফুফে সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদে দায়িত্ব নিতে মোট ২৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনকারীর মধ্যে ১৭০ জনই ছিলেন উয়েফা প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোচদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিটি ধাপেই যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রথমে ১০০ জনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর আরও বিশদ মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই তালিকা থেকে ২৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা, দল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশের ফুটবলের বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় সাক্ষাৎকারের জন্য চূড়ান্তভাবে ১১ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। বাফুফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় দলের নতুন কোচ এই ১১ জনের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন।

এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কোচদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ওয়েলসের সাবেক প্রধান কোচ ক্রিস কোলম্যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের রেকর্ড তাকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ওয়েলস জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলকে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিসরে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার অধীনে গ্যারেথ বেলের মতো তারকা ফুটবলার খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নেমেছেন। কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে অভিজ্ঞ ও বহুমাত্রিক কোচ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

ক্রিস কোলম্যানের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ খেলোয়াড় হিসেবে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং পরবর্তীতে ক্লাবটির কোচিং স্টাফেও কাজ করেছেন। জাতীয় দল পর্যায়ে তিনি হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল কাঠামোয় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং দল পুনর্গঠনের সক্ষমতা তাকে এই দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাফুফের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মূলত এই দুই কোচ। তাদের মধ্য থেকেই একজনকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নতুন কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, জাতীয় দলের জন্য সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন কোচ নিশ্চিত করতে সরকার বাফুফেকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তার ভাষায়, ‘আমি ইতিমধ্যে বলেছি যে বাফুফের সঙ্গে এক হয়ে আমরা বেস্ট পসিবল কোচকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যা করণীয়, সব সার্বিক সহযোগিতা বাফুফের পক্ষে থাকবে ইনশাল্লাহ।’

বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় এই কোচ নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একজন অভিজ্ঞ ও কার্যকর কোচের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। সে বিবেচনায় বাফুফের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায়

Leave a Comment