
স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ফ্রান্স কোচ দেশম
ফিফা বিশ্বকাপের মহারণে ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে নামছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই সেমিফাইনালের আগে ফরাসি শিবিরে বইছে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। দলের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের লক্ষ্য কেবলই জয়। মাঠের লড়াইয়ে স্প্যানিশদের রুখে দিয়ে ফাইনালে পা রাখতে শতভাগ প্রস্তুত তার দল। এই ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে দলকে তিনবার ফাইনালে তোলার এক অনন্য ও বিরল কীর্তি গড়বেন দেশম।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের শক্তির প্রশংসা করতে ভোলেননি ফরাসি মাস্টারমাইন্ড। তবে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়েও তার মনে কোনো সংশয় নেই। দেশম জানান, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যেমন ফরাসি ফুটবলারদের শক্তি ও দুর্বলতার খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেছেন, তেমনি ফ্রান্সের কোচিং স্টাফও প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তর হোমওয়ার্ক করেছে। মাঠের কৌশলে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না বলেই তার বিশ্বাস।
চলতি টুর্নামেন্টে স্পেনের উদীয়মান তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনা হচ্ছে। ইয়ামাল প্রসঙ্গে দেশম বলেন, মাঠের ওয়ান-টু-ওয়ান বা এক-এক পরিস্থিতিতে এই তরুণকে সামলানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই বেশ কঠিন। তবে একই সঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষকে মনে করিয়ে দেন যে ফরাসি ফরোয়ার্ডদের মুখোমুখি হতে গেলেও স্পেনের ডিফেন্ডারদের ঠিক একই রকম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
স্পেন দলের খেলার ধরন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশম তাদের বলের দখল ধরে রাখার প্রবণতা, আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং গোছানো রক্ষণভাগের প্রশংসা করেন। তবে এই ম্যাচকে কোনো পুরোনো হিসাব-নিকাশ বা প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তার মতে, সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে দুই দলের সামনেই ফাইনালে ওঠার সমান সুযোগ রয়েছে। যারা মাঠের সুযোগগুলো ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারবে এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে, শেষ পর্যন্ত তারাই হাসবে জয়ের হাসি।
ফরাসি সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের ফিটনেস। সাম্প্রতিক চোটের কারণে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও এমবাপ্পে নিয়মিত অনুশীলন করছেন এবং স্পেনের বিরুদ্ধে শুরুর মিনিট থেকেই মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত। অন্যদিকে বোস্টন থেকে ডালাসে দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা-ও উড়িয়ে দিয়েছেন কোচ। গ্রুপপর্বে শীর্ষে থাকার সুবাদে ফরাসিরা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতির পাশাপাশি চার দিনের পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছে। দেশম মনে করেন, সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।
দল গঠন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়েছেন ফরাসি কোচ। শুরুর একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলে অরেলিয়েন চুয়ামেনি, মানু কোনো, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। চোট কাটিয়ে ফেরা চুয়ামেনি এখনো শতভাগ ফিট না হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর মাঠে নামার জন্য তৈরি আছেন, যা দলের জন্য বড় একটি ইতিবাচক দিক।
একাদশে দেজিরে দুয়ে নাকি ব্র্যাডলি বারকোলা জায়গা পাবেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেশম কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, দুজন খেলোয়াড়ই মানসিকভাবে প্রস্তুত। প্রতিপক্ষের শক্তি এবং ম্যাচের কৌশল বিবেচনা করে একদম শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে। আক্রমণ ও রক্ষণে দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখা স্পেনের বিরুদ্ধে ফ্রান্স নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে মুখিয়ে আছে এবং এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।