এস্তাদিও দ্রাগাওতে নিজেদের চেনা দর্শকদের সামনে কঠিন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছিল পোর্তো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান আসরে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে পরিচিত এই পর্তুগিজ দলটি ফরাসি কোচ ফ্রান্সেসকো ফারিওলির অধীনে দারুণ ছন্দে ছিল। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাদের রোমাঞ্চকর কিছু করার সুযোগও তৈরি হয়েছিল। তবে সব সমীকরণ ও প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিলেন আর্লিং হালান্ড। এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের জোড়া গোলেই শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার উত্তরসূরি এনজো মারেস্কার দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল পুরোপুরি পোর্তোর গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তার নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। সিটির একের পর এক আক্রমণ একা হাতে প্রতিহত করেন তিনি। হালান্ডের একটি জোরালো হেড দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন মুখ আইয়ুব বুয়াদ্দি ও ফিল ফোডেনের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণগুলোও রুখে দেন কস্তা। তার অসাধারণ গোলকিপিংয়ের সুবাদেই প্রথমার্ধে কোনো গোলের দেখা পায়নি ম্যানসিটি। অন্যদিকে মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ এবং তরুণ বুয়াদ্দি নিজেদের পজিশনে ভালো খেলা উপহার দিলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে লিড নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ডেডলক ভাঙেন হালান্ড। খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত ক্রস থেকে নিচু হেড নেন তিনি। শটটি খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও কস্তাকে ভুল দিকে নির্দেশ করে তা জালে আশ্রয় নেয়। এই গোলের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পোর্তো। সিটির রক্ষণভাগ কিছুটা ঢিলেঢালা হয়ে পড়ায় চাপ তৈরি করে পর্তুগিজ ক্লাবটি। এমনকি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার ভুলে সমতা প্রায় ফেরানোর উপক্রম হয়েছিল। দোন্নারুম্মার বাড়ানো বল উইলিয়াম গোমেজের গায়ে লেগে সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যাওয়ায় যাত্রায় বেঁচে যায় সিটি।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জয় নিশ্চিত করেন সেই হালান্ডই। রায়ান আইত-নুরির বাড়ানো ক্রস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫৯ ম্যাচে এটি তার ৫৯তম গোল। একই সঙ্গে এই জোড়া গোলের সুবাদে সিটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলেন তিনি, যেখানে তার মোট গোল এখন ১৬৭টি। ম্যাচ শেষে অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হালান্ড জানান, ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে জয় তুলে নেওয়াটাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। এই জয়ের ফলে নতুন মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই পাঁচ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই ভয়ংকর স্ট্রাইকার।
