আসন্ন ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক দশটি আফ্রিকান দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে, যা মহাদেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে আফ্রিকার বিভিন্ন দলের একাধিক খেলোয়াড় পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসতে পারেন। কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠা আফ্রিকান ফুটবলের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও কয়েকজন খেলোয়াড় বিশেষভাবে নজর কাড়তে পারেন।
নিচে সম্ভাবনাময় সাতজন আফ্রিকান ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| খেলোয়াড়ের নাম | দেশ | পজিশন | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|
| আন্তোয়ান সেমেনিয়ো | ঘানা | ফরোয়ার্ড | এফএ কাপ ফাইনালে জয়সূচক গোল |
| ইয়ান ডিওমান্ডে | আইভরি কোস্ট | মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ড | ১২ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট; ‘রুকি অব দ্য সিজন’ |
| রনওয়েন উইলিয়ামস | দক্ষিণ আফ্রিকা | গোলরক্ষক | পেনাল্টি শুটআউটে ৪টি সেভ |
| রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেস | কেপ ভার্দে | ডিফেন্ডার | বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
| ব্রাহিম দিয়াজ | মরক্কো | উইঙ্গার | ৫ গোল; ২০২৫ আফকন সেরা খেলোয়াড় |
| ইসমাইলা সার | সেনেগাল | ফরোয়ার্ড/উইঙ্গার | ২০২১ আফকন জয়ী দলের সদস্য |
| ওমর মারমুশ | মিসর | উইঙ্গার | গতি ও ড্রিবলিং দক্ষতায় পরিচিত |
ঘানার ফরোয়ার্ড আন্তোয়ান সেমেনিয়ো, যিনি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ঘানাকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনালে তার জয়সূচক গোল উল্লেখযোগ্য।
আইভরি কোস্টের ইয়ান ডিওমান্ডে ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। জার্মান ক্লাব লাইপজিগের হয়ে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে দলকে লিগে তৃতীয় স্থানে তুলে এনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরতে সহায়তা করেন। তার এই পারফরম্যান্স তাকে ‘রুকি অব দ্য সিজন’ পুরস্কার এনে দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আফ্রিকা নেশনস কাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে চারটি শট ঠেকিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন।
কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার রোবার্তো ‘পিকো’ লোপেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুই হয়েছিল ভিন্নভাবে। লিংকডইনের মাধ্যমে জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি কেপ ভার্দের হয়ে খেলতে রাজি হন এবং বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলকে বিশ্বকাপে তুলতে সহায়তা করেন। দলটি ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়।
মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ ২০২৫ আফ্রিকা নেশনস কাপে পাঁচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং দলকে ফাইনালে তুলতে সহায়তা করেন। যদিও ফাইনালে সেনেগালের কাছে তারা পরাজিত হয়।
সেনেগালের ইসমাইলা সার দীর্ঘদিন ধরে দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২১ সালে আফ্রিকা নেশনস কাপ জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ২০২৫ আসরেও দলকে ফাইনালে তুলতে অবদান রাখেন।
অন্যদিকে মিসরের ওমর মারমুশ তার গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার দক্ষতার জন্য পরিচিত। জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে নজরে রয়েছেন।
এই সাতজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ২০২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
