
২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভাগ্য ফেরাতে পারেন এই ১০ তরুণ তুর্কি
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সেলেসাও শিবিরে এখন চলছে পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দলের অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত মুখগুলোর পাশাপাশি তরুণ রক্ত মিশিয়ে স্কোয়াডকে নতুন রূপ দিচ্ছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নতুন এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে আসছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে মোট তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিলে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তারা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে। এই সংক্ষিপ্ত প্রীতি সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতায়, যেখানে স্বাগতিক ভারত জাতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।
গত ২৬ বিশ্বকাপ আসরে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। আসরের নকআউট পর্বে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। ফলস্বরূপ, ১৯৯০ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ধাপের আগেই বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল ব্রাজিলের। এই ব্যর্থতার পরই টনক নড়ে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের। তারা অতীত ভুলে এখন পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছে ২০৩০ সালের বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠবারের মতো সোনালী ট্রফি ঘরে তোলার মিশনে।
সম্প্রতি ফিফার পক্ষ থেকে এমন ১০ জন উদীয়মান তরুণ প্রতিভার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৫ বছর বা তার কম। গত বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডে জায়গা না পেলেও এই ফুটবলাররাই এখন ভবিষ্যতের সেলেসাওদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
- এস্তেভাও: মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনজুরির কারণে আগের বিশ্বকাপে দলের বাইরে ছিলেন। তবে বর্তমান কোচ আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। ক্লাব ফুটবলে এরই মধ্যে ১১ ম্যাচে ৫টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন।
- ভিতর রেইস: মাত্র ২০ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল সেন্টার-ব্যাক। স্প্যানিশ ক্লাব জিরোনায় ধারে খেলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পর তিনি বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটিতে ফিরে এসেছেন।
- কাইকি ব্রুনো: ২৩ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক নিজ দেশের ক্লাব ক্রুজেইরোতে অসাধারণ খেলে সবার নজর কেড়েছেন। নতুন মৌসুমে তিনি ইতালির ক্লাব কোমোতে কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে ধারে খেলবেন।
- ওয়েসলি: ২২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। ইতালীয় ক্লাব রোমার হয়ে বাঁ প্রান্তে খেললেও তার মূল শক্তির জায়গাটি হলো রাইট-ব্যাক পজিশন। কোচরা তাকে ভবিষ্যতের নিয়মিত মুখ হিসেবে দেখছেন।
- আন্দ্রেই সান্তোস: ২২ বছর বয়সী প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। চেলসিতে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় মাঝখানে তার ফর্ম কিছুটা পড়তির দিকে ছিল। তবে বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে নিজের ছন্দ ফিরে পেতে লড়ছেন।
- জোয়াও পেদ্রো: ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির জার্সিতে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়েছেন এবং লিগে ১৫টি গোল করেছেন। তবে অদ্ভুতভাবে ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেললেও গোল পাওয়ার অপেক্ষা ফুরোয়নি তার।
- জোয়াও গোমেস: ২৫ বছর বয়সী এই লড়াকু মিডফিল্ডার উলভস দলের অবনমনের কঠিন সময়েও নিজের সুনাম এবং ব্যক্তিগত ফর্ম ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি দল বদল করে যোগ দিচ্ছেন অ্যাস্টন ভিলায়।
- কাইও জর্জ: ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ব্রাজিলিয়ান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তার গোল করার সহজাত দক্ষতার ওপর ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
- ভিতর রোকে: পালমেইরাসের এই ফরোয়ার্ড ইউরোপের ক্লাব বার্সেলোনায় গিয়ে নিজের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হন। তবে স্বদেশের ক্লাব ফুটবলে ফিরে এসে তিনি আবারও নিয়মিত গোল করে পুরনো ফর্মে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন।
- ইগর জেসুস: ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহাম ফরেস্টের জার্সিতে নিজের অভিষেক মৌসুমেই ১৬টি গোল করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।