ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ অ্যাশেজের উত্তাপের মধ্যেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। পার্থের মাঠে আগামীকাল শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৫–২৬ অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট। গত তিনটি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড কোনো জয় লাভ করতে পারেনি। এই কঠিন পরিসংখ্যান ১৩–০ বলে ইংলিশদের ভীত-সন্ত্রস্ত ইতিহাস স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে।
স্টোকস জানিয়েছেন, তিনি “অল্প কয়েকজন সৌভাগ্যবান ইংলিশ অধিনায়কদের মধ্যে একজন” হয়ে দেশে ফিরতে চান যারা অস্ট্রেলিয়ায় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি মনে করেন, সিরিজের গুরুত্ব অপরিসীম, তবে তিনি কোনো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন না। এই মনোভাবের মধ্যে ফুটে উঠেছে তার অভিজ্ঞতা এবং খেলোয়াড়দের উপর ভরসা।
২০১০–১১ সালের পর ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জেতেনি। স্যার অ্যান্ড্রু স্ট্রস সেই সময় ৩–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর স্টোকস এই চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন, যা তার অধিনায়কত্বে প্রথম পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা চোটে দুর্বল—প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স এবং জশ হেইজেলউড অনুপস্থিত।
স্টোকস সতীর্থদের চাপ থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট। স্কোয়াড ঘোষণা করে তিনি প্রস্তুতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছেন। ইংলিশ দল জানে, অ্যাশেজ জয় মানে কেবল গৌরব নয়, এটি একটি ইতিহাসের অংশও। স্টোকস সতর্কভাবে বলেছেন, “আমরা অমর হতে পারি না—কারণ সবাইকে একদিন মরতে হবে।”
এবারের সিরিজে পাঁচজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নতুনদের পরামর্শ দিচ্ছেন। স্টোকসের মতে, উত্তেজনা এবং চাপ অনুভব করা স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। সিরিজ শুরু হবার পর বেন স্টোকসের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড কি অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ইতিহাস রচনা করবে—সময়ই তার উত্তর দেবে।
