হকির আম্পায়ার ও টাইম কীপার । হকি খেলার তিন নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

হকির আম্পায়ার ও টাইম কীপার

 

 

আম্পায়ার ও টাইম কীপার । হকি খেলার তিন নম্বর আইন

১. খেলার নিয়ন্ত্রণ ও খেলার আইনগুলো প্রয়োগের জন্য দু’জন আম্পায়ার থাকবে। খেলা চলাকালে তারাই হবেন খেলার বৈধতা বা অবৈধতা নির্ণয়ের একমাত্র বিচারক।

২. যদি কোন আম্পায়ার নিয়োগ করা সম্ভব না হয় তবে প্রত্যেক দলকে একজন করে আম্পায়ার নিয়োগের দায়িত্ব নিতে হবে।

৩. প্রত্যেক আম্পায়ারের দায়িত্ব

(ক) প্রান্ত বদল না করে আম্পায়ারগণ নিজ নিজ অর্ধাংশের সম্পূর্ণ খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ।

(খ) আম্পায়ারগণ তাদের নিকটবর্তী সম্পূর্ণ পাশ রেখার হিট-ইন এবং নিকটবর্তী ব্যাক-লাইন বা প্রান্ত রেখার সমস্ত সিদ্ধান্তের জন্য এককভাবে দায়ী থাকবেন ।

(গ) নিজ অর্থের ১৬ গজের হিট, পেনাল্টি কর্ণার, পেনাল্টি স্ট্রোক, গোল ও তার নিজ সার্কেলের সমস্ত ফ্রি হিটের সিদ্ধান্ত দানের জন্য এককভাবে দায়ী থাকবেন।

 

৪. খেলার স্থিতিকাল নির্ণয়ের জন্য একমাত্র আম্পায়াগণই দায়ী থাকবেন। এ জন্য এক বা একাধিক সময় রক্ষক নিয়োগ করা যেতে পারে। সময় রক্ষকগণ সময়ের হিসার রাখা এবং বিরতি ও খেলার সমাপ্তি টানার নির্দেশ দানের কাজটি আম্পায়ারের পক্ষ থেকে করবেন ।

৫. আম্পায়াররা খেলার সম্পূর্ণ বা নির্ধারিত সময় খেলা পরিচালনা করবেন এবং কোন গোল হলে তাঁরা লিখিত হিসাব রাখবেন।

৬. বাধ্য হয়ে খেলা স্থগিত হলে খেলার সময় থেমে থাকবে, যাতে করে প্রতি অর্ধের প্রকৃত খেলার সময়-এর সাথে আইন ১.৫ ধারায় সমাঞ্জস্য থাকে ।

৭. আম্পায়ার বা সময় রক্ষকগণ খেলা চলাকালে বা বিরতির সময় খেলা সংক্রান্ত কোন রকম প্রশিক্ষণ বা উপদেশ দেয়া থেকে বিরত থাকবেন ।

 

৮. আম্পায়ার শুধু নিচের কারণগুলিতে বাঁশির সংকেত দেবেন

(ক) প্রতি অর্ধের খেলা শুরু এবং শেষ করার জন্য ।

(খ) আইন ভঙ্গের দন্ড প্রদানের জন্য।

(গ) পেনাল্টি স্ট্রোক শুরু ও শেষ করার জন্য।

(ঘ) বলটি যদি সম্পূর্ণ মাঠের সীমানার বাইরে চলে যায়, প্রয়োজনে তার নির্দেশ দেবার জন্য ।

(ঙ) গোলের নির্দেশ দেবার জন্য ।

(চ) কোন গোল হবার পর খেলা পুনরায় শুরু করার জন্য ।

(ছ) কোন কারণে খেলা স্থগিত বা বা পুনরায় খেলা শুরু করার জন্য ।

৯. খেলা শুরুর আগে যতদূর সম্ভব ৪ থেকে ৯ নং ধারা বলবৎ করা সম্পর্কে আম্পায়ারদের নিজেদের সন্তুষ্ট হতে হবে।

আম্পায়ারগণ এমন দন্ড দেয়া থেকে বিরত থাকবেন, যখন তাঁরা মনে করবেন যে, এই দন্ড প্রদানে আইন ভঙ্গকারী পক্ষই সুবিধা পাবে ।

 

আম্পায়ার ও সময় রক্ষক-এর জন্য  নির্দেশনা

সুপারিশ করা হচ্ছে যে,

৪. উভয় আম্পায়ারকেই খেলার প্রতি অর্ধের সময়ের হিসাব রাখতে হবে। কিন্তু সমঝোতার মাধ্যমে একজন আম্পায়ারের প্রতি অর্ধের খেলা শুরু ও শেষের বাঁশি বাজানোর প্রাথমিক দায়িত্ব নেয়া উচিত।

ভুল এড়ানোর জন্য আম্পায়াররা খেলা শুরু ও পুনরায় শুরুর আগে এবং উভয় অর্ধের খেলা শেষ হওয়ার আনুমানিক এক মিনিট আগে নিজেদের মধ্যে সম্মতিসূচক সংকেত বিনিময় করবেন।

যে আম্পায়ার সময় সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি যদি নির্ধারিত সময় এবং অধিক সময় খেলা চালাতে থাকেন তবে তার সহযোগীর উচিত খেলা বন্ধ করে সময়ের ব্যাপারে তার সাথে আলোচনা করা।

প্রয়োজনে আম্পায়ার একমত হবেন যে, তারা পেনাল্টি স্ট্রোক এবং অন্য এক ঘটনার কারণে খেলা বন্ধ থাকার সময় সমূহের কতটুকু সময় যোগ করবেন।

 

৬. বাধ্য হয়ে খেলা বন্ধ করা

যে সমস্ত অনিবার্য কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় সেগুলি হলো দুর্ঘটনা, পেনাল্টি স্ট্রোক, সময় অপচয়, গোলপোস্টের মেরামত, অথবা কোন আকস্মিক দুর্যোগ।

পেনাল্টি স্ট্রোক ঃ

পেনাল্টি স্ট্রোকের সময় সংকেত, সময় বন্ধের সংকেত, স্ট্রোকের গোল হওয়া বা না হওয়ার জন্য বাঁশি বাজানো হয়, তা খেলা শুরু হওয়ার বাঁশির সংকেত বলে বোঝায় না।

Leave a Comment