আরসেনাল স্কোয়াডের গভীরতা: প্রত্যাবর্তনকারী বিকল্পের জাদু

২০২৫-২৬ মরশুমের শুরুতে আরসেনাল যেন স্বপ্নের মতো খেলা দেখাচ্ছে। যদিও এ সপ্তাহটি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ রবিবারে তারা ইন-ফর্ম চেলসির মুখোমুখি হবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে, তবু মিকেল আর্টেটার দল ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম দুই পরীক্ষা খুব সুন্দরভাবে পেরিয়েছে।

উত্তর লন্ডনের ডার্বিতে জয় মূলত স্টার্টারদের অবদানেই এসেছে, তবে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে জয় আসলেই এসেছে বদলিদের কৌশল এবং কার্যকারিতার মাধ্যমে। লিওন্ড্রো ট্রোসার্ডের আঘাত প্রথমার্ধে হয়, যা আগের মরশুমে বড় উদ্বেগের বিষয় হতো, কিন্তু এই মরশুমে আর্টেটার কাছে এখন পর্যাপ্ত বিকল্প রয়েছে।

ননি মাদেউকে প্রথমে ট্রোসার্ডের জায়গায় বামপাশে রাখা হয়, পরে রিকার্দো কালাফিওরির পাসে ডানপাশে গোল করে আরসেনালকে ২-১ এগিয়ে নেন। এরপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি বিজয় নিশ্চিত করেন, যা এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু।

আর্টেটা শুধু স্টার্টারদের নয়, পুরো স্কোয়াডকে শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে নতুন খেলোয়াড়দের সংযোজন শুধু শুরুর ১১ জনের মান নয়, পুরো স্কোয়াডের মান বাড়িয়েছে। বেন হোয়াইট বা অলেক্সান্ডার জিঞ্চেঙ্কোদের মতো একসময়ের বড় নাম এখন ঘূর্ণায়মান বিকল্প হয়ে গেছে বা দল ছেড়ে দিয়েছে।

তাদের বিকল্পরা প্রতিনিয়ত খেলায় প্রভাব ফেলছে। ট্রোসার্ড এবং মিকেল মেরিনো মরশুমের শুরুতে স্কোয়াডের অংশ হলেও ইতিমধ্যেই অপরিহার্য অবদান রেখেছে। বিশেষ করে ট্রোসার্ডের প্রথম বড় অবদান এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্পেনের এটলেটিক ক্লাবের বিপক্ষে।

নতুনদের এই অবদান আরসেনালকে ২০২৩-২৪ মরশুমে বিকল্পদের গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভাঙার পথে রাখছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, তারা ২০২৩-২৪ থেকে বিকল্পদের গোল অবদানের মধ্যে চতুর্থ স্থানে।

কেন্দ্র-প্রতিরক্ষায় গ্যাব্রিয়েল ছুটির কারণে পিয়েরো হিনকাপি ও ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মস্কেরা সিজনের ১৩তম সর্বাধিক খেলার মিনিট পেয়ে স্কোয়াডের অবদান রেখেছে। ট্রোসার্ড ১২তম মানুষ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এছাড়া এই মরশুমে আরসেনাল কখনো পুরোপুরি ফিট স্কোয়াড পায়নি। কাই হ্যাভার্টজ, ওডেগার্ড ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসের আঘাত রয়েছে, তবে ধীরে ধীরে সবাই ফিরে আসছে। আর্টেটার জন্য এবার সত্যিকারের নির্বাচনের দুনিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

Leave a Comment