২০১৫ সালে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে সর্বশেষ খেলেছিল বার্সেলোনা। ওই আসরে তারা জুভেন্টাসকে পরাজিত করে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতে নেয়। এরপর দীর্ঘ এগারো বছর কেটে গেলেও দলটি আর ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। সাম্প্রতিক মৌসুমেও শেষ আটের পর্যায়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে তিন–দুই ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় বার্সেলোনা।
বর্তমান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে দলটি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে ফিরলেও শিরোপা অর্জনের ধারায় ফিরতে পারেনি। ফ্লিক দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটি একবার শেষ আট এবং একবার শেষ চার পর্যন্ত অগ্রসর হলেও চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়া যায়নি। তবে লিগ পর্যায়ে দলটি শিরোপা জয়ের পথে রয়েছে।
সম্প্রতি শেষ চার পর্যায়ের প্রথম লেগে প্যারিস সাঁ জার্মেই এবং বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল গোলসমৃদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ম্যাচটি সাত–পাঁচ গোলের ব্যবধানে শেষ হয়, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ স্কোরিং সেমিফাইনাল হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। এই ম্যাচটি বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ঘরে বসে প্রত্যক্ষ করেন। তিনি পূর্বে বায়ার্ন মিউনিখের কোচিং স্টাফ হিসেবে ইউরোপীয় শিরোপা অর্জন করেছিলেন।
বার্সেলোনার বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ইউরোপীয় পারফরম্যান্সকে নিম্নোক্তভাবে উপস্থাপন করা যায়—
| মৌসুম | প্রতিযোগিতা পর্যায় | ফলাফল |
|---|---|---|
| দুই হাজার পনেরো | ফাইনাল | শিরোপা জয় |
| দুই হাজার বাইশ | দ্বিতীয় সারির ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা | চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ |
| দুই হাজার তেইশ | দ্বিতীয় সারির ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা | চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ |
| সাম্প্রতিক মৌসুম | শেষ আট | বিদায় |
ফ্লিক দলের সামর্থ্য সম্পর্কে মূল্যায়ন করে জানিয়েছেন, তার মতে বার্সেলোনা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী। তার ভাষ্য অনুযায়ী দলটি প্যারিস সাঁ জার্মেই ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা রাখে।
দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপীয় শিরোপা না জিতলেও বার্সেলোনার দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপস্থিতি এবং প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে ধারাবাহিকভাবে শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারার কারণে ক্লাবটি শিরোপা খরা কাটাতে পারেনি।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, বার্সেলোনা এখনও ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে, তবে ফাইনালে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিকতা এখনো অর্জিত হয়নি।
