ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন বাংলাদেশের জন্য ছিল গর্বের। ব্যাটিংয়ে কিছুটা সংগ্রাম থাকলেও বোলিং বিভাগ বিশেষ করে স্পিন আক্রমণে তাইজুল ইসলাম দেখালেন তার অভিজ্ঞতা, নিখুঁততা ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ। আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ২৬৫ রানে গুটিয়ে দিতে তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ইনিংসেই তিনি স্পর্শ করে ফেললেন সাকিব আল হাসানের দীর্ঘদিনের রেকর্ড।
দ্বিতীয় দিনের শেষে আয়ারল্যান্ড ছিল পাঁচ উইকেটে ৯৮। তৃতীয় দিনে শুরু থেকেই ব্যাটাররা আরও দৃঢ় হয়ে নামেন। বাংলাদেশি বোলাররা—তাইজুল, ইবাদত হোসেন ও হাসান মুরাদ—বল করলেও উইকেট পড়ছিল না। এমন সময় দলের প্রয়োজন ছিল ব্রেকথ্রু, আর সেটাই এনে দিলেন তাইজুল। ৫৮তম ওভারেই টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচের গতি বদলে দেন। স্টিফেন ডোহেনি ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়েনকে ফিরিয়ে আয়ারল্যান্ডকে আবার চাপে ফেলে দেন তিনি।
যেখানে মনে হচ্ছিল খুব দ্রুতই ইনিংস গুটিয়ে যাবে, সেখানে লোরকান টাকার ও জর্ডান নিল অষ্টম উইকেটে ৭৪ রানের জুটিতে হাল ধরে রাখেন। তাদের দৃঢ়তায় ম্যাচ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নিলকে ৪৯ রানে ফিরিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন ইবাদত।
জুটি ভাঙার পর আর কেউ টাকারকে সঙ্গ দিতে পারেননি। গ্যাভিন হো দ্রুতই ফিরে যান, আর ম্যাথিউ হামফ্রিসকে তাইজুল নিজের বলেই ক্যাচ করিয়ে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের শেষটা টেনে দেন। এটি ছিল সেই উইকেট, যা তাকে এনে দেয় এক ঐতিহাসিক স্পর্শ—বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২৪৬ উইকেট।
এখন তাইজুল দাঁড়িয়ে আছেন ইতিহাসের দোরগোড়ায়। মাত্র একটি উইকেট পেলেই তিনি হয়ে যাবেন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। সাকিব এতদিন এককভাবে এই মর্যাদা ধরে রেখেছিলেন, এখন তার উত্তরসূরি হিসেবে সামনে উঠে এসেছেন দেশের অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও টিভি দর্শকরা তাইজুলের এই অর্জনের সাক্ষী হয়ে বুঝতে পারছেন, আগামী সেশন বা পরবর্তী ইনিংসেই সম্ভবত জন্ম নিতে যাচ্ছে নতুন এক রেকর্ড। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করতে তিনি প্রস্তুত।
