আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের চোট বা ইনজুরি নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ক্লাব ফুটবলের চলতি মৌসুমের পর্দা নামার ঠিক আগ মুহূর্তে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। তবে স্পেনের জাতীয় দল এবং বার্সেলোনার চিকিৎসকদের দেওয়া সবশেষ প্রতিবেদন স্প্যানিশ ফুটবল দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক সংবাদ নিয়ে এসেছে। ইয়ামাল আশাতীত দ্রুত গতিতে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চোটের ধরণ ও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন
ফুটবল খেলায় সাধারণত হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট বা পেশির টান জনিত সমস্যা বেশ গুরুতর হয়ে থাকে। এই ধরণের চোট যদি সাধারণ বা হালকা প্রকৃতির হয়, তবে খেলোয়াড়দের সুস্থ হতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগে। আর চোট যদি গুরুতর বা গভীর হয়, তবে রোগীকে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ইয়ামাল যখন এই চোটে আক্রান্ত হন, তখন টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ঘনিয়ে আসায় স্পেনের মূল দলে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধারণা করা হয়েছিল যে, এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে কমপক্ষে ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হতে পারে।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনা ক্লাব এবং স্পেন জাতীয় দলের সম্মিলিত চিকিৎসক দল গত শুক্রবার বার্সেলোনার নিজস্ব অনুশীলন কেন্দ্রে ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করেন। এই যৌথ পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালের শরীরে কোনো ধরণের জটিলতা নেই এবং তিনি চিকিৎসকদের পূর্বানুমানের চেয়েও অনেক দ্রুত গতিতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
লামিনে ইয়ামালের চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার খতিয়ান
স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের চোটের বিবরণ, চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | শারীরিক বিষয়ের সূচক | প্রাথমিক ধারণা ও চোটের প্রকৃতি | বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত |
| ১ | চোটের স্থান ও ধরণ | হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে টান জনিত সমস্যা। | দ্রুত নিরাময় হচ্ছে এবং কোনো জটিলতা নেই। |
| ২ | মাঠের বাইরে থাকার মেয়াদ | শুরুতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ দীর্ঘ মেয়াদের শঙ্কা। | ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে সুস্থতা অর্জন। |
| ৩ | প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা | প্রাক-বিশ্বকাপ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচসমূহ। | কোনো ধরণের ঝুঁকি না নিয়ে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত। |
| ৪ | বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সময় | উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল। | ১৫ জুন কেপভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই খেলবেন। |
আসন্ন ম্যাচের পরিকল্পনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত
লামিনে ইয়ামাল দ্রুত সুস্থতার দিকে এগিয়ে গেলেও স্পেনের মূল দল পরিচালনা কমিটি তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়ো বা কোনো প্রকার অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে স্পেন দল ইরাক এবং পেরুর বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি বা প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে অংশ নেবে। ইয়ামাল সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও এই দুটি প্রীতি ম্যাচে তাঁকে মাঠের বাইরে রেখে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁর চোট পুনরায় চাঙ্গা না হয়ে ওঠে।
চোটের গভীরতা বিবেচনা করে এক সময় স্পেনের ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল যে, গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে স্পেনের যে তৃতীয় ম্যাচটি রয়েছে, তার আগে ইয়ামালকে দলে পাওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু বর্তমানের ইতিবাচক শারীরিক উন্নতি স্পেনের সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। সবশেষ চিকিৎসাগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আগামী ১৫ জুন কেপভার্দের বিপক্ষে স্পেন যখন তাদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে, তখন লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে সম্পূর্ণ ফিট বা উপযুক্ত হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন লামিনে ইয়ামাল। তরুণ এই ফরোয়ার্ডের দ্রুত প্রত্যাবর্তন স্পেনের আক্রমণভাগকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই শক্তিশালী রাখবে।
