আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস পূর্বে বড় ধরনের সংকটের সম্মুখীন হয়েছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল চোটের কারণে দীর্ঘদিনের জন্য ছিটকে যাওয়ার পর এবার নতুন করে আঘাত পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী প্রতিভাবান উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস। গতরাতে স্প্যানিশ ঘরোয়া লিগে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে খেলার সময় তিনি পেশির গুরুতর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। দলের দুই নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের এমন শারীরিক অসুস্থতা স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
রবিবার ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল অ্যাথলেটিক বিলবাও। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি দ্রুত দৌড় দেওয়ার সময় হঠাৎ মাংসপেশিতে তীব্র টান অনুভব করেন নিকো উইলিয়ামস। যন্ত্রণায় কাতর এই তরুণ উইঙ্গার বুঝতে পারেন যে চোটটি গুরুতর। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রচণ্ড হতাশ হতে দেখা যায়। তার পরিবর্তে কোচ মাঠে নামান তার সহোদর ইনাকি উইলিয়ামসকে। তবে দলের প্রধান আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিলবাও; শেষ পর্যন্ত তারা ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
নিকো উইলিয়ামসের পেশির এই সমস্যাটি তার জন্য নতুন নয়। চলতি মৌসুমে কুঁচকির পুরোনো চোট তাকে বেশ কয়েকবার মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য করেছে। অ্যাথলেটিক বিলবাও কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই তার চোটের ধরণ এবং সুস্থতার সময়সীমা নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিকিৎসাগত প্রতিবেদন প্রদান করবে।
বর্তমান মৌসুমে নিকোর পারফরম্যান্স ও গুরুত্ব
স্পেন জাতীয় দলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের আক্রমণাত্মক কৌশলে নিকো উইলিয়ামস এবং লামিন ইয়ামাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের গতি এবং ড্রিবলিংয়ের ওপর ভিত্তি করেই স্পেনের আক্রমণভাগের সিংহভাগ পরিকল্পনা করা হয়। নিকোর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যানগত তথ্য |
| বর্তমান বয়স | ২৩ বছর |
| বিলবাওয়ের হয়ে চলতি মৌসুমে ম্যাচ | ৩২টি |
| চলতি মৌসুমে গোল সংখ্যা | ৬টি |
| গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) | ৭টি |
| স্পেনের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ৩০টি |
| আন্তর্জাতিক গোল সংখ্যা | ৬টি |
স্পেনের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
স্পেন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আগামী ১৫ জুন, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। তার আগে প্রস্তুতিমূলক অংশ হিসেবে ৯ জুন পেরুর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে তারা। ইতোমধ্যে লামিন ইয়ামাল পুরো মৌসুমের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পেনের আক্রমণভাগ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন যদি নিকো উইলিয়ামসও সময়মতো সুস্থ হতে না পারেন, তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্পেনের পারফরম্যান্স বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্পেনের জাতীয় দলের চিকিৎসকরা বর্তমানে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে এই তরুণ উইঙ্গারকে ফিট করে তোলাই এখন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লক্ষ্য। যদি শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হতে না পারেন, তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে তার মূল একাদশ এবং আক্রমণভাগের ধরনে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আক্রমণভাগের দুই অপরিহার্য স্তম্ভকে ছাড়া বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে লড়াই করা স্পেনের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
