
ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা লেফট-ব্যাকদের অন্যতম এবং ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম কাণ্ডারি রবের্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ব্রাজিলের প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন ‘ব্রাজিলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ইসলামিক জুরিস্টস’ (আনাজি)-এর সহ-সভাপতি ও ধর্মীয় উপদেষ্টা শেখ জিহাদ হামাদেহের বরাতে খবরটি প্রকাশ্যে এনেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। সম্প্রতি ব্রাজিল সফরকালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই ঐতিহাসিক তথ্য জানতে পারেন।
তুর্কি আইনপ্রণেতা আলি শাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা শেয়ার করে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, সরকারি সফরে ব্রাজিল গিয়ে সাঁও পাওলোর বিখ্যাত ‘ব্রাজিলিয়ান ইসলামিক চ্যারিটেবল ইউথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রধান কার্যালয়ে শেখ জিহাদ হামাদেহের সঙ্গে তার এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পাওয়া শেখ জিহাদের সঙ্গে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ব্রাজিলে ইসলামের প্রসার এবং স্থানীয় মুসলিমদের সার্বিক অবস্থা।
বৈঠক চলাকালে শেখ জিহাদ হামাদেহ জানান, রবের্তো কার্লোস বেশ কিছু দিন ধরে তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছিলেন। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন নৈতিক দিক ও জীবনদর্শন সম্পর্কে গভীরভাবে জানার পর তিনি এই অনুশাসনের প্রতি অনুপ্রাণিত হন। এই চর্চার ধারাবাহিকতায় চার সপ্তাহ আগে কার্লোস নিজে তার কাছে উপস্থিত হন এবং কালেমা শাহাদাত পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হন।
রবের্তো কার্লোসের জীবনধারা বিশ্লেষণ করলে এই সিদ্ধান্তের পেছনে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সরাসরি প্রভাব লক্ষ করা যায়। তিনি স্প্যানিশ ব্যবসায়ী সুহাইলা তাহিরিকে বিয়ে করেন, যিনি মরোক্কান বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম। জীবনসঙ্গীর সূত্রে পারিবারিক পরিসরে ইসলামের রীতিনীতির সঙ্গে তার পরিচয় বহু পুরোনো। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সুবর্ণ অধ্যায় কাটানোর পাশাপাশি তিনি তুর্কি ক্লাব ফেরেনবাচেতেও খেলেন। তুরস্কের ফুটবলে যুক্ত থাকার সুবাদে সেখানকার মুসলিম ঐতিহ্য, আতিথেয়তা ও জীবন ব্যবস্থার খুব কাছে আসতে পেরেছিলেন কার্লোস।
মাঠে বাঁ পায়ের বুলেট গতির অসাধারণ ফ্রি-কিক এবং ডিফেন্স থেকে অ্যাটাকে ওঠার ঝোড়ো গতির জন্য রবের্তো কার্লোসকে গোটা বিশ্ব চেনে। তার ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্রীড়াপ্রেমীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে নিজের জীবনের নতুন এই অধ্যায় নিয়ে রবের্তো কার্লোস বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো বার্তা বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।