সুহাইল সাত্তার ও তাঁর ছেলে ইয়াহিয়া সাত্তার গড়েছেন এক অনন্য কীর্তি। ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তাঁরা একসঙ্গে মাঠে নামেন তিমুর–লেস্তের হয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বাবা–ছেলে একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলার ঘটনা।
৫০ বছর বয়সী সুহাইল ও ১৭ বছর বয়সী ইয়াহিয়া দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ছোট দেশ তিমুর–লেস্তের হয়ে খেলেন ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে। এই ম্যাচ দিয়েই আইসিসির নতুন সহযোগী সদস্য তিমুর–লেস্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও ফলাফল সুখকর হয়নি—দলটি মাত্র ৬১ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১০ উইকেটে হারে। তবে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে থাকলেন সুহাইল ও ইয়াহিয়া। ম্যাচে দুজন কিছুক্ষণ একসঙ্গে ব্যাট করতেও পেরেছিলেন, যা তাঁদের পরিবারের জন্য আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এক নজরে ম্যাচের তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| তারিখ | ৬ নভেম্বর ২০২5, বৃহস্পতিবার |
| প্রতিপক্ষ | ইন্দোনেশিয়া |
| টুর্নামেন্ট | ত্রিদেশীয় সিরিজ |
| স্থান | বালি, ইন্দোনেশিয়া |
| তিমুর–লেস্তের রান | ৬১ |
| ফলাফল | ইন্দোনেশিয়া জয়ী, ১০ উইকেটে |
| ঐতিহাসিক দিক | আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম একসঙ্গে খেলা বাবা–ছেলে জুটি |
এই নজির কেবল পুরুষ ক্রিকেটেই নয়—নারী ক্রিকেটেও আগেই এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ড নারী দলের ৪৫ বছর বয়সী মেট্টি ফার্নান্দেজ ও তাঁর ১৭ বছর বয়সী মেয়ে নায়না মেট্টি সাজু একসঙ্গে ছয়টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন।
বাবা–ছেলে একসঙ্গে বা মুখোমুখি খেলার ইতিহাস ঘরোয়া ক্রিকেটেও নতুন নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারায়ণ চন্দরপল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল একসঙ্গে গায়ানার হয়ে ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন। আর ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের শপাগিজা লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী ও তাঁর ছেলে হাসান ইশাখিল—যেখানে হাসান ৩৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
তিমুর–লেস্তের ক্রিকেট এখনো শুরুর পর্যায়ে, তবে সুহাইল ও ইয়াহিয়ার এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
