নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ চলছিল মাঠে, কিন্তু তার থেকেও বড় ম্যাচ চলছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আনন্দ, হতাশা, ক্ষোভ, উচ্ছ্বাস—সবকিছু মিশে এক অদ্ভুত আবেগের ঢেউ বইছিল। একটা মুহূর্তে উল্লাস, পরের মুহূর্তেই গভীর হাহাকার। বাংলাদেশের ফুটবল বহু বছর ধরে যেভাবে আশা–নিরাশার দোলাচলে আটকে ছিল, এবার সেই দোলাচল যেন আরও তীব্র।
বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা প্রজন্মের পর প্রজন্মের। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সেই ভালোবাসা পেয়েছে হতাশার বোঝা। দু–একটি জয় মিললেও তাতে উত্তেজনা জাগেনি, কারণ মাঠে দেখা যায়নি লড়াইয়ের মানসিকতা। জাতীয় পতাকার জন্য আগ্রাসন—সেটাই সবথেকে বেশি অনুপস্থিত ছিল।
কিন্তু এবার বাতাসটা যেন বদলাচ্ছে। নেপালের সঙ্গে ২–২ ড্র—ফল ভালো নয়, সুযোগ নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ আবার আশা দেখতে শুরু করেছে। হতাশা আছে ঠিকই, কিন্তু সেই হতাশার ভেতরেও রয়েছে আলোছায়া মেশানো এক ধরনের প্রত্যাশা।
এই পরিবর্তনের মূল চরিত্র—হামজা চৌধুরী।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা, বর্তমানে চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তাঁর নিবেদন দেখে মনে হয়, যেন এটাই তাঁর নিজের দেশ। রক্ষণে, মাঝমাঠে, আক্রমণে—একাই তিন–চারজনের দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ছয় ম্যাচেই তাঁর চার গোল—তার মধ্যে নেপালের বিপক্ষে এক ম্যাচে পানেনকা ও ওভারহেড কিকে দু’টি গোল—বাংলাদেশ ফুটবলে যা রীতিমতো বিরল ঘটনা।
সমর্থকদের প্রশ্ন—হামজা একা কতটা পারবেন?
তাঁর ছুটে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে কেউ পার্ক জি সুংকে মনে করছেন, কেউ বলছেন, ‘হামজার তিনটি ফুসফুস—একটি নিজের, দু’টি বাংলাদেশের।’ আবেগের ওজন বোঝা যায়।
কিন্তু বাস্তবতা—ফুটবল দলীয় খেলা। মেসিকেও সহায়তা ছাড়া ট্রফি জেতা হয়নি। হামজার ক্ষেত্রেও তাই। শেষ মুহূর্তের ভুল, ডিফেন্সের দুর্বলতা—এসবই জয় কেড়ে নিচ্ছে। নেপাল ম্যাচ শেষে হামজার চোখের জল সেই আক্ষেপকেই বড় করে তুলেছে।
তবু আশার জায়গা আছে। বিদেশি লিগে খেলা নতুন প্রজন্মের ফুটবলার আসছে, দলের মান পরিবর্তন হচ্ছে, এবং বহু বছর পর মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
একসময় পানেনকা, ওভারহেড কিক মানে ছিল রোনালদো–মেসি।
এখন সেই জাদু দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ছেলেদের পায়ে।
পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
এবার প্রশ্ন—এ হাওয়া ঝড় হবে কি?
