এক্সে কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে এখন ইতালির সেরি ‘আ’-এর স্কাউট ফেলিক্স জনস্টন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে এখন প্রায় সবাই নিজেকে খেলার বিশেষজ্ঞ ভাবেন। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস—যে খেলা-ই হোক, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা চোখে পড়ে। তবে অনেকেই যেখানে শুধু কথায় সীমাবদ্ধ, সেখানে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিজের ভালোবাসাকে পেশায় পরিণত করেছেন।

এই তরুণের নাম ফেলিক্স জনস্টন। একসময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির একনিষ্ঠ সমর্থক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন তিনি। নিয়মিত এক্সে চেলসির একাডেমির ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক পোস্ট করতেন, প্রতিভাবান তরুণদের পারফরম্যান্স তুলে ধরতেন নিজের ফিডে। সেই জনস্টনই এখন ইতালির সেরি ‘আ’ ক্লাব কোমো ১৯০৭-এর মূল দলের স্কাউট হিসেবে কাজ করছেন—যে ক্লাবের কোচিং স্টাফে আছেন স্পেন ও আর্সেনালের সাবেক তারকা সেস্ক ফাব্রেগাস।

অর্থাৎ এখন থেকে কোমোর জন্য নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, দল শক্তিশালী করতে সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের নজরে আনা—এই দায়িত্বই পালন করবেন জনস্টন।

এক্স থেকে ফুটবলে পেশাদার জীবন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রেডিও ৫-এর এক অনুষ্ঠানে জনস্টন জানান, “লকডাউনের সময় এক বন্ধু বলেছিল, ‘টুইটারে যাও, ফুটবল নিয়ে সবাই ওখানেই কথা বলে।’ তারপর থেকেই আমার শুরু।”
চেলসি একাডেমির খেলা দেখতে দেখতে তিনি ফুটবলার বিশ্লেষণের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ধীরে ধীরে নিজেই শুরু করেন স্কাউটিং, আর চেলসির তরুণ-নির্ভর ট্রান্সফার নীতি তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, “রাত দুইটা পর্যন্ত খেলা দেখতাম। কেন্দ্রি পায়েজ বা এস্তেভাওয়ের মতো প্রতিভাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। একসময় দেখলাম, পেশাদাররাও আমার বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তখন বুঝলাম, এটা কেবল শখ নয়, এটি সত্যিকারের সুযোগ।”

ক্লাবভিত্তিক যাত্রা ও স্কাউটিং পদ্ধতি

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ডেনমার্কের ক্লাব ভাইলে তাকে স্কাউটিং কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়েছিল। এরপর জুলাইয়ে কোমোর রিক্রুটমেন্ট ডিরেক্টর টুইটারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
“তিনি বলেছিলেন, আমার কাজ তার ভালো লেগেছে এবং জানতে চাইলেন আমি ইন্টার্নশিপে আগ্রহী কি না। নয় সপ্তাহ পর জানালেন, আমি চাকরি পাচ্ছি।”

জুলাইয়ের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোমোতে যোগ দেন জনস্টন। বর্তমানে তিনি মিলানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কোমোর স্কাউট হিসেবে কাজ করছেন। মূলত ক্লাবটির ডেটা বিভাগের প্রধান এজেড আলকামার-এর অধীনে কাজ করছেন তিনি।

জনস্টন জানান, “তারা প্রথমে আমাকে কিছু ডেটা-নির্ভর খেলোয়াড়ের নাম দেন। আমি তাদের খেলা দেখি, রিপোর্ট তৈরি করি। নির্দিষ্ট কোনো পজিশন নয়, আমি সব পজিশনের খেলোয়াড়ই পর্যবেক্ষণ করি।” সাধারণত পাঁচটি পূর্ণ ম্যাচ দেখে প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আরও বেশি ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন।

অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের কাছে

জনস্টনের গল্প এখন অনেক তরুণ ফুটবলপ্রেমীর প্রেরণার উৎস। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উঠে এসে ইউরোপের শীর্ষ লিগে চাকরি পাওয়া এক বিরল উদাহরণ তিনি।

ইতালির ক্লাব কোমোও প্রমাণ করছে, নতুন প্রজন্মের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাধারা গ্রহণ করেও সফল হওয়া সম্ভব। বর্তমানে দলটি সেরি ‘আ’-এর পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম স্থানে আছে—যেখানে পরিশ্রম, আধুনিক বিশ্লেষণ ও তরুণ মেধার সমন্বয়ই তাদের শক্তির মূলভিত্তি।

Leave a Comment