
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রায়ো ভায়েকানোকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ
গত ম্যাচে রিয়াল বেতিসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার রাতে লা লিগায় প্রতিবেশী ক্লাব রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করে নিয়েছে তারা। দলের জয়ের মূল কারিগর ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে নিজের অসাধারণ ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধেই তিন গোলের পরিষ্কার লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেন কোচ জোসে মরিনিওর শিষ্যরা। ১৪ মিনিটে ডি-বক্সে কারেরাস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষক এমিল আউদেরোকে বোকা বানিয়ে দলকে প্রথম লিড এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর কিছুক্ষণ পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ভিনিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত প্রেসের মুখে পড়ে ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজুন বল হারান। সেই বল ধরে এমবাপ্পের সঙ্গে পাস আদান-প্রদান করে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান আলভারো কারেরাস।
ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ তে নিয়ে যান মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। বাঁ দিক থেকে বল পায়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে চলতি মৌসুমের নিজের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন এই ইংলিশ তারকা। এই ম্যাচে রিয়ালের রেকর্ড সাইনিং ইয়ান দিওমান্দে প্রথমবারের মতো মূল একাদশে খেলার সুযোগ পান। যদিও গতি দিয়ে কয়েকটি ভালো আক্রমণ তৈরি করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হন তিনি।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় প্তম স্থানে ধুঁকতে থাকা রায়ো ভায়েকানো। ৫১ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। ভিনিসিয়ুসের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন সের্হিও কামেয়ো। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার ষষ্ঠ গোল। এই গোলের সুবাদে লা লিগার শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় রাফিনিয়া ও এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে আসেন তিনি। গোল হজম করার পর ম্যাচে কিছুটা চাপ তৈরি হয় রিয়াল শিবিরে। তবে কোর্তোয়া চমৎকার কয়েকটি সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলের। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইনজুরি সময়ে তার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকেই নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি আদায় করে নেন এমবাপ্পে। বক্সের ভেতর থেকে তার নেওয়া নিচু ও কোণাকুনি শট সরাসরি ঠিকানা খুঁজে পায়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এটি এমবাপ্পের সপ্তম গোল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়লো রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী মঙ্গলবার লিগের পরবর্তী ম্যাচে এলচের মাঠে খেলতে নামবে দলটি।