
এল ক্লাসিকোয় গোল উদযাপনে মাঠ থেকে বিতাড়িত রিয়াল ভক্ত বাবা-ছেলে
ছেলের ১৮তম জন্মদিনের স্মরণীয় এক উপহার হিসেবে স্বপ্নের এল ক্লাসিকো স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন এক বাবা। কিন্তু প্রিয় দলের জয়ের আনন্দ তো দূরে থাক, উল্টো মাঠ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার তিক্ত এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার কাছে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন স্লোভাকিয়ার নাগরিক ও রিয়াল মাদ্রিদের নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক ফ্রানতিশেক ভাভরেক। গত ২৫ অক্টোবর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মাঠে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্লোভাক নাগরিক ভাভরেক তার ছেলে ডেনিসের বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেক আগেই এল ক্লাসিকো ম্যাচের টিকিট কেটেছিলেন। ম্যাচটি মাঠে বসে দেখার জন্য দুটি টিকিটের পেছনে তাকে খরচ করতে হয়েছিল আড়াই হাজার ইউরোর বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে চার লাখ টাকার সমান। কিন্তু মাঠে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল নানা বিপত্তি। ভাভরেকের দাবি, স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের গায়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি খুলে ফেলতে বাধ্য করেন। নিরাপত্তার অজুহাতে জার্সিগুলো কোথায় রাখা যাবে জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি স্টেডিয়ামের একটি আবর্জনার পাত্র বা ডাস্টবিন দেখিয়ে দেন।
এই প্রসঙ্গে নিজের হতাশা প্রকাশ করে ভাভরেক গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ডেনিসকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তারা লস ব্লাঙ্কোসদের সমর্থক এবং কোনো অবস্থাতেই নিজেদের প্রিয় ক্লাবের জার্সি ডাস্টবিনে ফেলে অবমূল্যায়ন করবেন না। পরবর্তীতে জার্সি গায়েই তারা গ্যালারিতে প্রবেশ করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা স্বাভাবিকভাবেই খেলা উপভোগ করেন। ম্যাচের একপর্যায়ে রিয়াল ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের পা থেকে গোল আসে। এমবাপ্পের এই গোলের সুবাদে উল্লাসে ফেটে পড়েন বাবা-ছেলে। তারা স্টেডিয়ামের সিটে দাঁড়িয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করেন। আর এই সামান্য উদযাপনের খেসারত হিসেবেই তাদের ওপর চড়াও হন নিরাপত্তাকর্মীরা।
ভাভরেকের জোরালো দাবি, তারা গ্যালারিতে বিন্দুমাত্র কোনো সহিংস আচরণ করেননি, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাউকে কোনো ধরনের মৌখিক বা শারীরিক হুমকি দেননি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে উসকানিও দেননি। তারা কেবল সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মতো নিজেদের দলের গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করছিলেন। কিন্তু বার্সেলোনার নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের কোনো কথা না শুনেই জোর করে গ্যালারি থেকে বের করে দেন। এমনকি শুরুতে জার্সিগুলো খুলে ফেললে পুনরায় ম্যাচে ফিরে আসার মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশের মুখোমুখি হয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাধ্য হয়ে তাদের স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ ছাড়তে হয়।
স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা দেখতে না পেরে হতাশ বাবা-ছেলে শেষ পর্যন্ত পার্কিংয়ের বাইরে একটি ট্যাক্সির ভেতরে বসে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনেই ম্যাচের বাকি অংশ উপভোগ করেন। প্রিয় দলের ম্যাচ মাঠে বসে সম্পূর্ণ দেখার স্বপ্ন অধরা থাকলেও তাদের সেই ত্যাগ শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়নি। মাঠে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলের সুবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে দুর্দান্ত এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।