ব্রেন্ডান ডগেটের জীবনের গল্পটি একদিকে যেমন অনুপ্রেরণামূলক, অন্যদিকে এটি কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক। ছোট শহর রকহ্যাম্পটনের একটি কাঠমিস্ত্রির ঘরে জন্ম নেওয়া এই তরুণ, প্রতিদিন ভোরে উঠে কাঠের কাজ করত এবং নিজের পরিবারের জন্য বাড়ি বানাত। তবে তার কল্পনা ছিল বড় – ক্রিকেট। প্রতিদিন ৯০ মিনিট গাড়ি চালিয়ে ব্রিসবেনে পৌঁছে ব্যাট-বলের অনুশীলন করত তিনি, যেখানে প্রতিদিনের ছোট ভুল ও পরিশ্রম তাকে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করেছিল।
ডগেট প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন সাত বছর আগে, যখন প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড চোটের কারণে বাইরে ছিলেন। এবার একই কারণে সুযোগ ফিরে এসেছে। ডগেট জানিয়েছেন, “আমার দুটি জীবন – একজন কাঠমিস্ত্রি, একজন ক্রিকেটার। যদি এবার টেস্ট অভিষেক ঘটে, তবে এটি হবে আমার জীবনের তৃতীয় অধ্যায়।”
ডগেটের ক্রিকেট যাত্রা দারুণ গতিশীল। মাত্র দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় গ্রেড ক্লাব ক্রিকেট থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৮ সালে তার ডাক আসে জাতীয় দলে। দুবাইয়ের মরুভূমিতে তীব্র ফিটনেস ক্যাম্পে নিজেকে আরও শক্তিশালী করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে ডগেট ২০২১ সালে কুইন্সল্যান্ড থেকে সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় যোগ দেন। নতুন দলের প্রথম তিন মৌসুমে চোটে ভুগলেও ২০২৩ সালে ভাগ্য তার পক্ষে ঘুরে দাঁড়ায়। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের দিশা বদলে দেন।
বিগত দুই মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬৬ উইকেট নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শিল্ড জয়ের নায়ক হয়েছেন ডগেট। ৩১ বছর বয়সী এই পেসার এখন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান পেসার হিসেবে পরিচিত। পরিবার ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে সুখী জীবনযাপন করছেন তিনি, তবে ক্রিকেট এখনও তার জীবনের মূল আকর্ষণ।
অ্যাশেজ সিরিজে ডগেটের প্রথম টেস্ট অভিষেকের সম্ভাবনা সব চোখের সামনে। পার্থে যদি তার ব্যাগি গ্রিন পরিধান হয়, তা হবে কাঠমিস্ত্রি থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক অনন্য মাইলফলক।
