ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কোচ ছাঁটাই আর মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ—এই দুই শব্দ যেন চেলসি ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড় বদলেছে, মালিকানা বদলেছে, কিন্তু কোচ পরিবর্তনের প্রবণতা এবং সেই সঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের ইতিহাস প্রায় একই রয়ে গেছে।
চেলসির এই ‘ব্যয়বহুল ঐতিহ্য’-এর সূচনা আরও স্পষ্ট হয় ২০০৭ সালে। সে বছর প্রিমিয়ার লিগের চেহারা বদলে দেওয়া কোচ হোসে মরিনহো প্রথমবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ ছাড়েন। বিদায়ের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এরপর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে চেলসির দায়িত্ব নিয়ে আবারও মাঝপথে বরখাস্ত হন মরিনহো। সেবারও ক্লাবকে গুনতে হয়েছিল প্রায় ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড।
মরিনহোর পর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও অনেক নাম। গ্রাহাম পটারকে বরখাস্ত করার পরও তার চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী বড় অঙ্কের বেতন পরিশোধ করতে হয়েছিল চেলসিকে। সর্বশেষ সংযোজন ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেসকা।
২০২৪ সালের জুনে লেস্টার সিটি থেকে মারেসকাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় চেলসি। তাকে দলে টানতে তখনই প্রায় ৮–১০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল লেস্টারকে। মারেসকার অধীনে চেলসি উয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপে সাফল্য পেলেও প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা আসেনি প্রিমিয়ার লিগে।
নতুন বছরের শুরুতেই, ১ জানুয়ারি, মারেসকাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত জানায় ক্লাব। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চেলসি জানায়,
“ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে উভয় পক্ষই পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেছে।”
তবে মারেসকাকে ঠিক কত অর্থ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি চেলসি। সাধারণত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোচ ছাঁটাই হলে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিতে হয়—এই অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এখানেও ব্যতিক্রম হবে না।
চেলসির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে আপাতত এগিয়ে আছেন ফরাসি ক্লাব স্ট্রাসবুর্গের কোচ লিয়াম রোজেনি। নতুন কোচ চূড়ান্ত হলেই মারেসকার ক্ষতিপূরণের অঙ্ক প্রকাশ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্ব ফুটবলে বরখাস্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়া কোচদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মরিনহো। তিনটি ক্লাব থেকে চাকরি হারিয়ে তিনি মোট ৫৩.৮ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যার বড় অংশই এসেছে চেলসি থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে এই অঙ্ক প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
চেলসির কোচ ছাঁটাই ও ক্ষতিপূরণের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| কোচের নাম | বরখাস্তের বছর | আনুমানিক ক্ষতিপূরণ |
|---|---|---|
| হোসে মরিনহো | ২০০৭ | £18 মিলিয়ন |
| হোসে মরিনহো | ২০১৫ | £18 মিলিয়ন |
| আন্তোনিও কন্তে | ২০১৮ | £26.2 মিলিয়ন |
| গ্রাহাম পটার | ২০২৩ | বড় অঙ্ক (ঘোষিত নয়) |
| এনজো মারেসকা | ২০২৫ | এখনো প্রকাশিত নয় |
সব মিলিয়ে, একক ক্লাব হিসেবে কোচ ছাঁটাই করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ ব্যয়কারী ক্লাব চেলসি। বিভিন্ন সময় তারা কোচদের ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যয় করেছে প্রায় ৮৩.৮ মিলিয়ন ইউরো, যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য—এবং বিতর্কিত—রেকর্ড।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, চেলসিতে কোচ হওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। কারণ এখানে সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু ট্রফি নয়—তাৎক্ষণিক ফলই শেষ কথা।
