ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

১। প্রস্থ এবং পোঁতা

মুটি উইকেটের সেটস গঠিত হয়। প্রত্যেকটি ৯ ইঞ্চি/২২.৮৬ সেমি চওড়া তিনটি স্টাম্প, তার উপর দুটি করে কাঠের বেল থাকবে, এটি পরস্পরের বিপরীত ও সমান্তরালভাবে এক প্রান্তের স্টাম্প থেকে অপর প্রান্তের স্টাম্পের কেন্দ্রবিন্দুর ২২ গঞ্জ/২০ ১২ মিটার দূরে পোঁতা হবে ।

২। স্টাম্পের পরিমাপ

স্টাম্পের পরিমাপ সমান হতে হবে এবং সেগুলি এমন হতে হবে যেন তাদের মাঝ দিয়ে বল গলে যেতে না পারে। এদের উচ্চতা মাটি থেকে ২৮ ইঞ্চি/ ৭১ ১ সেমিঃ হবে এবং বেল বসানোর খাঁজটি ছাড়া ওপরের আকৃতি হবে গম্বুজের মতো।

৩। বেলের পরিমাপ

প্রত্যেকটি বেলের পরিমাপ দৈঘ্যে ৪% ইঞ্চি বা ১১১ সেমি হবে এবং যখন স্টাম্পের মাথার উপর বসানো থাকবে তখন তারা স্টাম্প ছাড়িয়ে ১২ ইঞ্চি বা ১.৩ সেমির বেশি উঁচুতে উঠবে না।

টীকা

বেল পরিত্যাগ

(অ) প্রচন্ড বাতাসে আম্পায়াররা বেলের ব্যবহার বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

(আ) ছোটদের ক্রিকেট

স্থানীয় গভর্ণিং বডি কর্তৃক ছোটদের ক্রিকেটের জন্য উইকেটের নিম্নলিখিত পরিমাপগুলি প্রযোজ্য হবে।

প্রস্থ- ৮ ইঞ্চি/ ২০.৩২ সেন্টিমিটার। পীচ-২১ গজ/ ১৯.২০ মিটার।

উচ্চতা-২৭ ইঞ্চি/ ৬৮.৫৮ সেন্টিমিটার

বেল- ৩৭৮ ইঞ্চি/৯.৮৪ সেনিমিটার দৈর্ঘ্যে এবং ১/২ ইঞ্চি/১৩ সেন্টিমিটার এর বেশি উঁচু হবে না।

 

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

জ্ঞাতব্য বিষয়

আম্পায়ারদের এই আইনটি ভাল করে পড়া ও অনুধাবন করা প্রয়োজন। পীচের নকসা বোঝা ও জ্যামিতির ওপর বুৎপত্তি এবং নির্দিষ্ট মাপের ভাল কাঠের ফ্রেমের দ্বারা পীচের উপর ক্রীজগুলি অঙ্কন, সবই ত্রুটিবিহীন হওয়া উচিত। এইগুলি না হলে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের খেলা এবং আম্পায়ারদের পরিচালনা বিঘ্নিত হয়ে থাকে। এই আইনের সাথে ৯ নং আইনটি দেখার প্রয়োজন আছে।

(১) প্রথম কাজ পীচের কেন্দ্র বরাবর একটি অনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের (৬৬ ফুটের বেশি) সরলরেখা অর্থাৎ পীচের সেন্টার লাইনটি টানা (অ-ঈ) যার উপর নির্ভর করে দুই প্রান্তে দুটি উইকেট স্থাপন করা হবে। তারপর আম্পায়াররা ঐ সেন্টার লাইনের পিছনে সমকোণে দাঁড়িয়ে উভয় প্রান্ত থেকে পীচের বিন্যাস পরীক্ষা করবেন।

(২) ঐ সরলরেখার উপর পীচের কেন্দ্র বিন্দু থেকে (ঙ) উভয় দিকে ৩০ ফুট মাপ নিয়ে যথাক্রমে ৬৬ ফুট অংশটি সেন্টার লাইন হিসাবে কেটে নিতে হবে (আ-ই)

(৩) এই সেন্টার লাইনের ওপর এক প্রান্তে জ্যামিতি, ত্রিকোণী বা নির্দিষ্ট মাপের কাঠের ফ্রেমের সাহায্যে ‘আ’ বিন্দুতে লম্ব টানতে দিয়ে ৮-৮” দৈর্ঘ্যের বোলিং ক্রীজটি কেটে নিতে হবে (‘ক’ ‘খ’)।

(৪) বোলিং ক্রীজের উভয় প্রান্তে ‘ক’ ও ‘খ’ বিন্দু দুইটিকে এই ক্রীজের সমকোণে দুটি ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের সরলরেখা টানতে হবে (‘ক’ ‘প’ এবং ‘খ’ ‘) এই রেখা দুটিই রিটার্ণ ক্রীজ বলে পরিগণিত।

(৫) এই রিটার্ণ ক্রীজ দুটির ‘ফরওয়ার্ড এক্সটেনসন’ আঁকার জন্য ‘প’ ‘ক’ও ‘ফ’- ‘খ’ রেখা দুটিকে পীচের সামনের দিকে ৪ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে। (‘ক’ ‘চ’ এবং ‘খ’-‘ছ’)

(৬) ‘চ’ এবং ‘ছ’ এই বিন্দু দুটির সংযোজক সরলরেখাই পপিং ক্রীজ হবে। (‘ট’- ‘ঠ’)। পপিং ক্রীজটি সেন্টার লাইন থেকে উভয় দিকে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের পরিমাপ কমপক্ষে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের টানতে হবে ।

(৭) এই পপিং ক্রীজটি ‘সেন্টার লাইনকে ‘আ’ বিন্দু অর্থাৎ ওই প্রান্তের মিডল স্টাম্পের কেন্দ্রবিন্দু থেকে ৪ ফুট দূরত্বে ‘ন’ বিন্দুতে ছেদ করবে।

 

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

অনুরূপভাবে অপরপ্রান্তে ‘ই’ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঐ প্রান্তের ‘বোলিং ক্রীজ’ (‘গ’- ‘ঘ’), রিটার্ণ ক্রীজ দু’টি (গত ও ঘব) ও তার ফরওয়ার্ড এক্সটেনসন (গঝ খজ) এবং পপিং ক্ৰীজ (ড-ঢ) টানতে হবে।

এইক্ষেত্রে ওপরে উল্লিখিত- সরল রেখাগুলির সংস্থাপন উপযুক্ত মাপের পেরেকের সাহায্যে করতে হয়। পীচের এই অঙ্কন পদ্ধতি সঠিক হলে তবে ক, খ, গ, ঘ বিন্দুগুলির সরলরেখার দ্বারা সংযোজিত ক্ষেত্রটি একটি আয়তক্ষেত্র হবে।

একটি নির্ভুল ও সঠিকভাবে সংস্থাপিত পীচ পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে ‘ক’ ‘প’ এবং ‘খ’- ‘ফ’ কর্ণ দুইটির মাপ (দূরত্ব) প্রায় সমান হবে, (৬6-6° থেকে ৬৬-৮-র মধ্যে) তবে এ বিষয়টি পীচের উপরিস্তরের সমতলের ওপর নির্ভরশীল। এই কর্ণদু’টির ছেদবিন্দু সেন্টার লাইনের ওপর পীচের মধ্যবিন্দু’ঙ’তে ছেদ করবে।

বোলিং ও পপিং ক্রীজগুলির অঙ্কন প্রথমে সরু রেখা দ্বারা করতে হবে। এগুলিকে ক্রীজের ‘ব্যাক এজ’ বলা হয়। এই সরু রেখাগুলি টানার পরে এগুলিকে মোটা করে। (১* ১১/২) চুনের দাগ বা সাদা রঙের সাহায্যে ভাল করে অঙ্কন করা হয়ে থাকে। আবার মনে রাখতে হবে যে পপিং ফ্রীজ ও রিটার্ণ ক্রীজ রেখাগুলি সীমাহীন। কিন্তু কার্যতঃ পপিং ক্ৰীজ কমপক্ষে ১২ ফুট এবং রিটার্ণ ক্রীজ কমপক্ষে ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের টানা হয়।

এইবার ‘আ’ ও ‘ই’ বিন্দু দুটিতে একটি করে স্টাম্প পোতা হলে সেই স্টাম্প দুটিই উভয় প্রান্তের যথাক্রমে মিডল স্টাম্প বলে গণ্য হবে। এই মিডল স্টাম্পগুলিকে কেন্তু করে ‘স্টাম্প গেজের’ সাহায্যে অন্যান্য স্টাম্পগুলিকে পোতা হলে তবেই ৯ ইঞ্চি প্রস্থের উইকেট দুটি গঠিত হবে।

মাটিতে পৌতার সময় মাটি শক্ত বোধ হলে স্টাম্পের গর্তগুলিতে অল্প পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেয়া সুবিধাজনক।

মাটিতে পোঁতার পর স্ট্যাম্পগুলির জমি থেকে উচ্চতা ২৮ ইঞ্চি অবশ্যই হবে।

পরিশেষে উভয়প্রান্তে দুইটি করে প্রতি উইকেটের মাথায় ৪৩% দৈর্ঘ্যের বেল স্থাপন করলে জমি থেকে উইকেটের সর্বসমেত উচ্চতা যেন ২৮২ ইঞ্চির বেশি না হয় এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত দরকার।

 

ক্রিকেট খেলার উইকেট । ক্রিকেট খেলার ৮ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

 

জ্যামিতিক পদ্ধতিতে পীচে উইকেট বিন্যাস

 

(১) প্রথমে খেলার জন্য নির্দিষ্ট পীচের কেন্দ্র বরাবর সেন্টার লাইনটি (অ-ঈ) টানতে হবে। এখন ‘ই’ বিন্দুকে কেন্দ্র করে সেন্টার লাইনের (অ-ঈ) এক দিকে ৩ ফুট ব্যাসার্ধের একটি চাপ আঁকতে হবে (উ)।

(২) তারপর ‘ই’ বিন্দু থেকে ‘সেন্টার লাইনের’ (অ-ঈ) ওপর ৪ ফুট ব্যাসার্ধের এমন একটি চাপ আঁকতে হবে, যা সেন্টারলাইনকে ‘ন’ বিন্দুতে ছেদ করবে।

(৩) এখন ‘ন’ বিন্দু থেকে ৫ ফুট ব্যাসার্ধের এমন আর একটি চাপ টানতে হবে যেটি ৩ ফুট ব্যাসার্ধের চাপটিকে ‘উ’ বিন্দুতে ছেদ করবে।

(৪) এরপর ‘ই’ এবং ‘উ’ বিন্দু দুটির সংযোজক সরলরেখার ওপর ভিত্তি করেই ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি মাপের বোলিং ক্রীজটি টানতে হবে।

 

(৫) পরিশেষে জ্যামিতিক পদ্ধতি অনুযায়ী অপর প্রান্তের পপিং ক্রীজ, বোলিং ক্ৰীজ এবং রিটার্ণ ক্রীজ ও তার ফরওয়ার্ড এক্সটেনসন দুটি টানতে হবে।

বিঃ দ্রঃ ১৮৭২ সালের মে মাসে এম. সি. সি-র প্রথম একাদশ বনাম দ্বিতীয় একাদশের খেলা সর্বপ্রথম ২৮ পরিমাপের উইকেট ব্যবহারের সূত্রপাত হয়েছিল।

Leave a Comment