শ্যূটিং খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

   আজকে আমরা আলোচনা করব শ্যূটিং খেলার আইন কানুন সম্পর্কে। ক’দিন আগেও শ্যূটিং খেলা সম্পর্কে আমাদের দেশের সাধারণ ক্রীড়ামোদীর ধারনা ছিল খুবই কম। অনেকে তো এ খেলা সম্পর্কে একেবারেই অবগত ছিলেন না। বাংলাদেশের দুই কৃতি শ্যুটার আতিকুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার নিনি কমনওয়েলথ গেমসে। সোনা জেতার পর এদেশের ক্রীড়ামোদী মহলে এ খেলা সম্পর্কে আগ্রহের সৃষ্টি হয় ।

 

শ্যূটিং খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

শ্যূটিং খেলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এ খেলা এখনও বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া আমাদের দেশে শ্যূটিং ক্লাবের সংখ্যাও হাতে গোনা কটি। ফলে সর্বস্তরের ক্রীড়ামোনী এ খেলা শিখতে বা খেলা সম্পর্কে জানতে পারছে না। তবুও দিন দিন শ্যুটিংয়ের প্রতি ক্রীড়ামোদী মহলের আগ্রহ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে শ্যূটিং হচ্ছে আমাদের প্রধান ভরসা। আমাদের দেশের শূটাররা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সোনা জয় করে নিজেদের দেশের পতাকা তুলে ধরছেন। যা পারছে না আমাদের ফুটবলার বা ক্রিকেটাররা। গত সাফ গেমসের সিংহভাগ সোনা এসেছে শুটিং থেকে ।

যে কোন খেলার প্রসারতার জন্যে প্রথমে প্রয়োজন সে খেলার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ওয়াকেবহাল হওয়া। কিন্তু শ্যূটিংয়ের প্রচার ও প্রসারতা কম হওয়ায় এ খেলার নিয়ম-কানুন ফেডারেশনের লোকজন ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে বর্তমানে শ্যূটিং যেভাবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে এ খেলা সাধারণ ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। তাতে করে প্রতি বছর অনেক নতুন নতুন প্রতিভাবান শুটার বেরিয়ে আসবেক

শুটিংয়ের সরঞ্জাম

শ্যূটিং খেলার জন্যে প্রথমে প্রয়োজন শূটিং কমপ্লেক্স এর শুটিং কমপ্লেক্স- এ থাকে টার্গেট পেপার । শূটারকে টার্গেট পেপার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে হয় । ১০,২৫ ও মিটার দূর থেকে শূটার টার্গেট পেপার লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। শূটারের অস্ত্র ছাড়াও নির্ধারিত পোশাক, হ্যান্ড গ্লাভস, জুতো প্রভৃতি ব্যবহার করতে হয়। শুটিংয়ে একসাথে একাধিক শূটার অংশ নিতে পারে।

 

শূটিয়ের নিয়মাবলী

৫০ মিটার ইভেন্ট (পুরুষ)

(১) ফ্রি রাইফেল (ইংলিশম্যান): প্রতি টার্গেটে একটা করে ৬০টি টার্গেটে ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয় । এর জন্যে নির্ধারিত সময় হচ্ছে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এতে মোট পয়েন্ট ৬০০ অর্থাৎ প্রত্যেক টার্গেটে ১০।

(২) ফ্রি রাইফেল (৩×৪০ শর্ট)ঃ এই ইভেন্টে শুটারকে দাঁড়িয়ে ৪০ টা বসে ৪০ টা এবং শুয়ে ৪০ টা গুলি ছুঁড়তে হয়। এতে সময় নির্ধারিত ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট এবং পয়েন্ট ১২০০।

(৩) ফ্রি-পিস্তলঃ এতে প্রত্যেক শুটারকে ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয়। এতে সময় হচ্ছে ২ ঘন্টা । মোট পয়েন্ট ৬০০।

৫০ মিটার ইভেন্ট (মহিলা)

(১) স্টান্ডার্ড রাইফেলঃ এই ইভেন্টে প্রতিযোগিকে শুয়ে ৬০ টি গুলি ছুঁড়তে হয়। এতে সময় নির্ধারিত ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট এবং পয়েন্ট ৬০০ ।

(২) স্টান্ডার্ড রাইফেল (৩×২০): এই ইভেন্টে দাঁড়িয়ে ২০টি, বসে ২০টি এবং শুয়ে ২০টি গুলি ছুঁড়তে হয়। এতে সময় হচ্ছে ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট এবং পয়েন্ট হচ্ছেঃ

 

২৫ মিটার ইভেন্ট (পুরুষ)

(১) র‍্যাপিড ফায়ার পিস্তলঃ

এই ইভেন্টে শূটারকে প্রতি ৮.৬ এবং ৪ সেকেন্ডে ৩০টি করে মোট ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয়।

(২) স্টান্ডার্ড পিস্তলঃ

এই ইভেন্টে প্রতিযোগীকে প্রতি ১০.২০ ও ১৫০ সেকেন্ডে ৩টি করে মোট ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয়।

(৩) ফায়ার পিস্তলঃ

এই ইভেন্টেও ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয়। ৬০টি গুলির প্রথম ৩০টি ৬মিনিটে ৫টা হিসেবে এবং শেষের ৩০ টি প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১টা করে ।

 

১০ মিটার ইভেন্ট (পুরুষ)

(১) ১৭৭ এয়ার রাইফেলঃ এই ইভেন্টে প্রতিযোগীকে ৬০ টি গুলি করতে হয়। সময় ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট পয়েন্ট ৬০০।

(২) ১৭৭ এয়ার পিস্তলঃ এই ইভেন্টেও শ্যূটিংয়ে ৬০টি গুলি ছুঁড়তে হয় ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পয়েন্ট ৬০০।

(৩) রে টার্গেট (পুরুষ) : ১২ বোর শর্ট গান দিয়ে এ প্রতিযোগিতায় গুলি ছুঁড়তে হয় । এর তিনটি ইভেন্ট হচ্ছে,

(ক) স্কিটঃ এতে ১২৫ টি গুলি ছুঁড়তে হয়:

(খ) ট্র্যাপঃ এতেও ১২৫ টি গুলি ছুঁড়তে হয়;

(গ) ডবল ট্র্যাপঃ এতে ১৫০ টি গুলি ছুঁড়তে হয় ।
এই ইভেন্টগুলো ছাড়াও রয়েছে ৩০০ মিটার বিগ বোর। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতা হওয়ায় আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত হয় না। তবে অলিম্পিকে এই ইডেন্ট অর্ন্তভুক্ত ।

 

শ্যূটিং খেলা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এ খেলার প্রচলন কম। তবে কথা হলো, শুটিংই আমাদের দেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পদক জয়ের অন্যতম সেরা খেলা । আর এ কারণে শুটিংয়ের প্রসার আরও ব্যাপকতা লাভ করা উচিত ।

Leave a Comment