খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

খো খো খেলার আইন কানুন নিয়ে আজকের আলোচনা। অন্যান্য খেলার মতো খো খো খেলা ইদানিং খুব জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এই খেলাটির জনপ্রিয়তা শহরে নেই বললেই চলে। গ্রামাঞ্চলেই এ খেলার জনপ্রিয়তা সীমাবদ্ধ ।

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

এখন জানা দরকার, এই খো খো খেলার মাঠের বিষয়ে। খো খো খেলার মাঠ হবে আয়তক্ষেত্রাকার। দৈর্ঘ্যে ৩৪ মিটার ও প্রস্থে ১৬ মিটার। এই আয়তক্ষেত্রাকারের মধ্যে দু’দিকে দু’টি আয়তক্ষেত্র (১৬ x ৪.৮ মিটার) হবে। এই আয়তক্ষেত্রাকার অংশ বাদ রেখে দু’দিকে দু’টি কাঠের দন্ড পোঁতা থাকবে। এই লাঠি বা দডের উচ্চতা হবে ১.২০ মিটার। পরিধিতে ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার।

এইবার এই দু’টি লাঠির সংযোগের জন্য কেন্দ্র পথ যাবে মাঠের মাঝখান দিয়ে। এই কেন্দ্র পথের দৈর্ঘ্য ২৪.৪ মিটার ও প্রস্থে ৩০ সেন্টিমিটার। এই পথের উপরই থাকবে আটটি কোর্ট বা ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্র বা কোর্টের মাপ হবে ৩০ x ৩০ সেন্টিমিটার। তবে এই ক্ষেত্র বা প্রতিটি বর্গক্ষেত্রের অবস্থান হবে একটির থেকে অন্যটির দূরত্ব ২.৭ মিটার।

কেন্দ্রপথের সমকোণে এবং সমান দু’ভাগে বিভক্ত ৮টি এড়োপথ ছোট বর্গক্ষেত্রগুলির ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এই এড়োপথের মাপ হবে ১৬ মিটার X ৩০ সেন্টিমিটার এবং এর দু’দিকে ৭.৮৫ মিটার পর্যন্ত হবে।

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

এখন জানা দরকার এই খেলা কি ভাবে খেলতে হয়

অন্যান্য খেলার মতো এই খেলাতেও দু’টি দল থাকে। একটি ধাবক অন্যটি অনুধাবক। বর্গক্ষেত্রে পরস্পর বিপরীত মুখে বসা খেলোয়াড়দের দলকে বলে অনুধাবক । এই অনুধাবকদের কাজ হলো খেলোয়াড়দের মোর করা বা ছুঁয়ে দেয়া। যাদের মোর করার জন্য অনুধাবকেরা ছুটে যায়, তাকে বলে সক্রিয় অনুধাৰক। অর্থাৎ এই অনুধাবকদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা অনুধাবক ও সক্রিয় অনুধাৰক ।

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

কি ভাবে খো দেওয়া হবে

উপবিষ্ট অনুধাবককে কোন সক্রিয়া অনুধাবক পিছন থেকে হাত দিয়ে পিঠ স্পর্শ করে খো বলে। এই খো যেন সকলে শুনতে পায়। সক্রিয় অনুধাবক উপবিষ্ট অনুধাবককে স্পর্শ করা মাত্র, সেই উপবিষ্ট অনুধাবক সক্রিয় অনুধাবক হয়ে যায় ।

খো খো খেলার নিয়ম

প্রতি দলে নয়জন করে খেলোয়াড় থাকবে। যদি কোন খেলোয়াড় খেলার মধ্যে আহত হয়ে পড়ে, তাহলে তার পরিবর্তে বদলি খেলোয়াড় নামানো যায়। এই খেলায় দু’টি করে ইনিংস থাকে। একটি ইনিংসের আবার দু’টি করে টার্ম বা আবর্ত থাকে। প্রতিটি আবর্তের সময় হলো সাত মিনিট।

আবর্তের পর অন্য আবর্তের মধ্যে দু’মিনিটের বিরতিকাল ও একটি পর্যায় বা ইনিংসের পর বিরতির সময় রাখা হয় পাঁচ মিনিট ।
খেলা আরম্ভ হওয়ার আগে টস হয়। এই টসে যারা জয়লাভ করে, তাদের ইচ্ছা অনুসারে ধাবক ও অনুধাবকের দল ঠিক হয়।

যে দল ধাবক হয়, সেই দলের অধিনায়ক তার দলের নয়টি খেলোয়াড়ের মধ্যে তিন জন করে নিয়ে একটি উপদল গঠন করে দান শুরু করেন। শুরুতে প্রথম তিনজন ধাবক দলের হয়ে মাঠে আসে। এই তিনজন মোর বা আউট হয়ে গেলে পরবর্তী তিনজন মাঠে নামে। একটি উপদলের শেষ ধাবককে যে সক্রিয় অনুধাবক মোর করে বা আউট দেয়, সে অন্য অনুধাবককে ছুঁয়ে ‘খো’ দেয়ার আগেই নতুন উপদলকে মাঠে নামতে হয় । তা না হলে সেই উপদলকে মোর বা আউট বলে গণ্য করা হবে।

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

যে সক্রিয় অনুধাবক, কোন ধাবক উপদলের শেষ জনকে মোর করেছে, সে আর পারে না নতুন উপদলের কোন ধাবককে আউট বা পিছু তাড়া করতে ।

সক্রিয় অনুধাবককে সব সময়ের জন্য সামনের দিকে ছুটতে হবে এবং পরবর্তী সক্রিয় অনুধাবককে যে এড়োপথ ছিল তা পরিত্যাগ করে ধাবকের পথে অনুসরণ করতে হবে, বিপরীত দিক থেকে নয়। তাছাড়া বসে থাকা অনুধাবকেরা কখনই কোন ধাবককে বাধা দিতে পারবে না এবং ধাবকেরাও পারবে না কোন উপবিষ্ট অনুধাবককে স্পর্শ করতে।

অনুধাবকেরা যতজন ধাবককে মোর করতে পারবে, তাদের পয়েন্ট হবে ততো। আবর্ত শেষ হওয়ার আগে যদি অনুধাবকেরা ধাবকদের সকলকে আউট করতে পারে তো তাদের কৃতিত্ব হিসাবে তারা ‘লোনা’ পায়। তবে এই লোনার জন্য বিশেষ কোন পয়েন্ট পাওয়া যায় না। যদি এই খেলায় কোন দল বারো বা তার বেশি পয়েন্ট পায়, তাহলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিকে “ফলোঅন” করাতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বি দল বেশি পয়েন্ট পেয়ে গেলে, আগের দল তাদের পরিত্যক্ত অনুধাবন আবর্তটি খেলার সুযোগ পাবে।

দুই ইনিংস মিলিয়ে যে দল বেশি পয়েন্ট পায়, সেই দলই জয়লাভ করে। লীগ পদ্ধতির খেলায় যে দল জয়লাভ করে তারা পায় দু’টি পয়েন্ট। হারার জন্য শূন্য এবং পয়েন্ট উভয় দলের সমান সমান হলে, উভয় দলই পাবে একটি করে পয়েন্ট। যদি নর আউটের খেলা হয় তো তখন উভয় দল সমান পয়েন্ট পেলে অতিরিক্ত একটি ইনিংস খেলা হবে। তাতেও যদি ফলাফল সমান থাকে তো নতুন করে আবার খেলা শুরু হবে।

 

খো খো খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

খো খো খেলতে যে কথা জেনে রাখা দরকার

(১) সক্রিয় অনুধাবক কেন্দ্রপথ অতিক্রম করতে পারবে না বা তার বিপরীত পাশের ভূমি স্পর্শ করতে পারবে না ।

(২) ‘খো’ না পাওয়া পর্যন্ত কোন অনুধাবক উঠতে পারবে না বা সক্রিয় অনুধাবক হতে পারবে না।

(৩) সক্রিয় অনুধাবকের দন্ড স্পর্শ করেও কেন্দ্র পথে যাওয়া চলবে না

(৪) উপবিষ্ট অনুধাবক ধাবকের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

(৫) ধাবকেরা কোন উপবিষ্ট অনুধাবককে স্পর্শ করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাকে সাধবান করে দেয়া হবে। এই সাবধানতার পরও যদি কেউ কোন উপবিষ্ট অনুধাবককে স্পর্শ করে তবে সেই ধাবককে আউট বলে ঘোষণা করা হবে।

(৬) ধাবক তার পা দু’টিকে সীমানা বা দাগের বাইরে নিয়ে যেতে পারবে না।

(৭) এড়োপথ অতিক্রম করার পর সেই এড়োপথের বর্গক্ষেত্রে উপবিষ্ট অনুধাবককে ‘খো’ দেয়া যাবে না।
এবার বলি এই খেলা পরিচালনার জন্য একজন রেফারি, দু’জন আম্পায়ার, একজন সময়রক্ষক ও একজন পয়েন্ট গণনাকারী থাকেন।

 

আম্পায়ারদ্বয়ের দাঁড়াবার জায়গা হলো কেন্দ্রপথের দুদিকে অর্থাৎ লবিতে। দুই লবিতে বা দুই কেন্দ্রপথে একজন করে দু’জন আম্পায়ার থাকবেন। প্রয়োজনে তারা বাশি বাজাবেন। বিশেষত এই বাশি বাজিয়ে আবর্ত শুরু করা হয়। গণনাকারী ধাবকদলের অধিনায়কের কাছ থেকে উপদলের পর্যায়ক্রমে নামের তালিকা ও নম্বরকে জেনে নিয়ে লিপিবদ্ধ করবেন। পরিশেষে জানা দরকার কখন একজন ধাবক আউট হবে না।

(১) যদি ‘খো’ না পেলে কোন অনুধাবক উঠে গিয়ে কাউকে স্পর্শ করে।

(২) বিপরীত দিকে গিয়ে কাউকে স্পর্শ করলে।

(৩) ধাবকের দু’টি পায়ের মধ্যে যে কোন একটা পা সীমানার মধ্যে থাকলে।

(৪) দন্ড রেখার বিপরীত দিকের ভূমি স্পর্শ করে মোর করলে বা মোর করার সঙ্গে সঙ্গে দন্ডরেখা অতিক্রম করলে।

(৫) খো খো খেলার শুরুতে প্রথম অনুধাবক এক দন্ডরেখা থেকে অন্য দন্ডরেখা অতিক্রম করার আগে কাউকে স্পর্শ করলে । যদি কোন খেলোয়াড় পর পর উল্লেখিত কোন নিয়মভঙ্গ করে তাহলে তাকে সতক করা হয় এবং সতর্কিত খেলোয়াড়টি পুনরায় নিয়মভঙ্গ করলে তাকে আউট বলে গণ্য করা হবে।

Leave a Comment