স্কুল বোর্ডে চক দিয়ে অঙ্ক সমাধান শেখানো শিক্ষক আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে হাত ওঠানো সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের নায়ক অস্ট্রেলিয়ার স্যাম নাগাইস্কি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তিনি আজ যুক্ত হলেন আম্পায়ারিংয়ের সর্বোচ্চ মর্যাদায়—টেস্ট আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক।
Table of Contents
গণিত শিক্ষক থেকে আম্পায়ার হওয়ার পথচলা
২০১২ সাল পর্যন্ত নাগাইস্কি ছিলেন তাসমানিয়ার ‘দ্য হাচিন্স স্কুল’-এর একজন গণিত শিক্ষক। কিন্তু সংখ্যার কষাঘাতের চেয়ে ক্রিকেটের আবেগই তাকে বেশি টানতো। খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন তিনি হারান অল্প বয়সেই—১৮ বছর বয়সে গুরুতর চোট তাকে মাঠের বাইরে ঠেলে দেয়। কিন্তু তিনি খেলাটিকে ছেড়ে যেতে রাজি ছিলেন না। তাই বেছে নিলেন আম্পায়ারিং, যেন ক্রিকেটের মাঝে থাকতে পারেন চিরকাল।
তাঁর নিজের ভাষায়—
“ক্রিকেট আমার শ্বাস-প্রশ্বাস। খেলতে না পারলে অন্তত ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি।”
আন্তর্জাতিক সাফল্যের নতুন নিয়ত
২০১৬–১৭ মৌসুমে তিনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক প্যানেলে জায়গা পান। একই মৌসুমে ভারতের রঞ্জি ট্রফিতেও দায়িত্ব পালন করেন। কেবল অস্ট্রেলিয়াই নয়, তিনি দ্রুতই স্বীকৃতি পান বিশ্বমঞ্চেও।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া–শ্রীলঙ্কার টি–টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। একই বছরের অক্টোবরে করেন ওয়ানডে অভিষেক। এরপর থেকে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৯৬টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন।
সম্মান, রেকর্ড এবং তাসমানিয়ার গর্ব
তাসমানিয়ার ইতিহাসে তিনিই প্রথম আম্পায়ার, যিনি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, আর দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা তিন বছর—২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে—অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা আম্পায়ার নির্বাচিত হন, যা তার নিখুঁত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।
সিলেটের টেস্ট: ইতিহাসের নতুন অধ্যায়
আজ সিলেটে যখন তিনি প্রথমবারের মতো টেস্টের দায়িত্বে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর পাশে ছিল সম্পূর্ণ অদ্বিতীয় এক যাত্রা—যেখানে পড়ানো হয়েছে অঙ্ক, আর পরিচালনা করা হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ম। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন গল্প শুধু অনুপ্রেরণা নয়, প্রমাণ করে—স্বপ্ন দেখলে জীবনও হিসাব বদলে দিতে পারে।
