গুয়াহাটি টেস্টে পুরো মনোযোগ এখন এক নামেই—মার্কো ইয়ানসেন। গতকালই ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদের মুখ থেকে উত্তোলন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ইয়ানসেন আজ দেখিয়ে দিলেন, বল হাতেও তিনি কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারেন।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ভারত জয়ের জন্য দৃঢ় প্রতিরোধ গড়তে চাইছিল। ঋষভ পন্তকে ৬ রানে হারিয়ে দিলেও জয়সোয়াল এবং লোকেশ রাহুল প্রথম ঘণ্টায় স্থিতিশীল খেলায় অর্ধশতরান জুটি গড়ে ৬৫ রানের মধ্যে ইনিংসকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছেন। জয়সোয়ালের ফিফটির সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দরও ৪৮ রান করে দলে কিছু রঙ যোগ করেন। কুলদীপ যাদবও ছোট কিন্তু প্রতিরোধমূলক ইনিংস খেলেন।
তবে ইয়ানসেনের বলের আঘাত ভারতকে ভেঙে ফেলল। ২৭ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ভারত অলআউট হয় ২০১ রানে। ইয়ানসেন ৬ উইকেট নেন মাত্র ৪৮ রানে। তার মধ্যে ৪ উইকেট আসে শুধুমাত্র বাউন্সারের মাধ্যমে। ভারতের সাবেক পেসার ইরফান পাঠান বলেছেন, “মার্কো ইয়ানসেনের এই স্পেলটি ভারতীয় পিচে এক অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলিং স্পেল।”
শেষ সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৪৮৯ রানে স্কোর করার পর ৮ ওভারে ২৬ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে যায়। রায়ান রিকেলটন অপরাজিত ১৩ এবং এডেন মার্করাম অপরাজিত ১২ রানে ক্রিজে থাকেন। ভারতের জন্য এটি মানে এক বিরাট ৩১৪ রানের পিছিয়ে থাকা।
ইয়ানসেনের কীর্তি শুধুই বোলিং নয়। আগের দিন তিনি ব্যাট হাতে ৯১ বলে ৯৩ রান করেছিলেন। আজ দেখালেন, উপমহাদেশের পিচেও ফাস্ট বোলিংয়ে কেমন ঝড় তোলা যায়। ইয়ানসেনের বোলিং স্ট্যাটস এবং দিনের খেলার সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংক্ষিপ্ত স্কোর
| দল | ইনিংস | রান | প্রধান স্কোরার | বল হাতে সেরা পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|---|
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ১ম | ৪৮৯ | রিকেলটন ১৩, মার্করাম ১২* | — |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | ২য় | ২৬/০ | রিকেলটন ১৩*, মার্করাম ১২* | — |
| ভারত | ১ম | ২০১ | জয়সোয়াল ৫৮, ওয়াশিংটন ৪৮, রাহুল ২২, কুলদীপ ১৯ | ইয়ানসেন ৬/৪৮, হারমার ৩/৬৪, মহারাজ ১/৩৯ |
ভারতের ইনিংস ভাঙার পর ইয়ানসেন এবং তার সতীর্থরা উদযাপন করেছেন ঋষভ পন্তকে ফেরানোর পর। ভারতকে ৩১৪ রানে পিছিয়ে ফেলা এবং ইয়ানসেনের ব্যাট-বলের দারুণ পারফরম্যান্স এই টেস্টকে হয়ে উঠেছে তার ব্যক্তিগত জয়যাত্রার মতো।
তৃতীয় দিনে দেখানো এই দারুণ খেলা নিশ্চিত করেছে যে ইয়ানসেন এখন শুধু ব্যাটে নয়, বল হাতেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য একটি দারুণ ঝুঁকি।
