
ঘরের মাঠে সাফ জয়ের মিশনে বাংলাদেশ, গ্রুপে পেল শ্রীলঙ্কা-ভুটানকে
দীর্ঘ তেইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠার এক দারুণ সুযোগ চলে এসেছে বাংলাদেশের সামনে। দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আসন্ন ১৫তম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আনুষ্ঠানিক ড্রয়ে ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। অন্যদিকে, তুলনামূলক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ ও পাকিস্তান।
শনিবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। জমজমাট ও উৎসবমুখর এই ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবল প্রতিনিধি ছাড়াও বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন কাজী সালাহউদ্দিন। কাকতালীয়ভাবে, ড্রয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই পুনরায় সাফের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এই ড্র অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদস্য দেশ মোট সাতটি হলেও ফিফার নিষেধাজ্ঞার জেরে এবারের প্রাথমিক ড্রয়ে রাখা হয়নি নেপালকে। তবে সাফ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হয়, তবে তারা টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং টুর্নামেন্টের বিন্যাসে পরিবর্তন আনলে, স্বাগতিক বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতে নেপালকে সরাসরি ‘এ’ গ্রুপে যুক্ত করা হতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে সাফ কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
বাংলাদেশ দলের জন্য এই টুর্নামেন্টের আবেগ এবং গুরুত্ব দুটোই ভীষণ বেশি। ২০০৩ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ দল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি দশক। এই দীর্ঘ যাত্রায় বহুবার ফাইনালে উঠলেও বা সেমিফাইনালের বাধা পার হতে ব্যর্থ হয়ে শিরোপার নাগাল পাওয়া হয়নি। ট্রফির এই দীর্ঘ খরা ঘুচিয়ে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরতে উন্মুখ হয়ে আছে পুরো দেশ।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই অবসান ঘটাতে আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর আবারও বাংলাদেশের মাটিতেই বসছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই জমজমাট মহাযজ্ঞ। ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশ, অনুকূল আবহাওয়া এবং দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর গ্যালারির সমর্থনকে সর্বাত্মকভাবে কাজে লাগিয়ে এবার ইতিহাস পাল্টানোর পরিকল্পনা সাজাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের খেলোয়াড়রাও কঠোর অনুশীলন ও নিজেদের সেরা নিংড়ে দিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে দেশের মাটিতে আরও একবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া যায়।