বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে দীর্ঘ আটাশ বছর পর প্রত্যাবর্তন করেই এক স্মরণীয় ও গৌরবময় জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের প্রতিনিধি স্কটল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিকে ১-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্কটিশরা। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে এবং একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করায়, বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ স্থানটি নিজেদের দখলে নিয়েছে স্কটল্যান্ড। আটাশ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে নামা স্কটিশরা এই ম্যাচের মাধ্যমে দীর্ঘ ছত্রিশ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়ের স্বাদ আস্বাদন করল। এর আগে শেষবার তারা ১৯৯০ সালে সুইডেনকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল।
Table of Contents
প্রথমার্ধের আক্রমণ ও জন ম্যাকগিনের ভাগ্যনির্ধারক গোল
আজ রবিবারের এই ম্যাচে শুরু থেকেই সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার কৌশল অবলম্বন করে স্কটল্যান্ড। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্কটিশরা। দলের অধিনায়ক স্কট ম্যাকটমিনে মাঠের ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি জোরালো শট নেন। তবে তাঁর সেই শটটি হাইতির গোলপোস্টের উপরের অংশ স্পর্শ করে মাঠের বাইরে চলে গেলে সে যাত্রা গোল থেকে বঞ্চিত হতে হয় স্কটল্যান্ডকে।
অবশ্য গোলের জন্য ইউরোপীয় দলটিকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলের দেখা পায় স্কটল্যান্ড। হাইতির ডি-বক্সের ভেতরে স্কটিশ ফুটবলার চে অ্যাডামস একটি শট নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তাঁর সেই মিস করা শটটি হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডের শরীরে আঘাত করে ফাঁকা জায়গায় চলে আসে। সেখান থেকে মাত্র তেরো গজ দূর থেকে স্কটল্যান্ডের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার জন ম্যাকগিন গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি শট নেন। সেই শটটি হাইতির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে প্রবেশ করে। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডকে পরাস্ত করে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং প্রথমার্ধের খেলা এই ব্যবধানেই শেষ হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান ও দলসমূহের ইতিহাস
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, খেলোয়াড়দের অবদান এবং দল দুটির ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে বিন্যস্ত করা হলো:
| পর্যালোচনার বিষয় ও ইতিহাস | সংশ্লিষ্ট নিখুঁত তথ্য ও উপাত্ত |
| টুর্নামেন্ট ও গ্রুপ | বিশ্বকাপ ফুটবল, ‘সি’ গ্রুপ |
| ম্যাচের ভেন্যু ও সময় | বোস্টন স্টেডিয়াম, ফক্সবোরো (আজ, রবিবার) |
| ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল | স্কটল্যান্ড ১ – ০ হাইতি |
| একমাত্র গোলদাতা | জন ম্যাকগিন (ম্যাচের ২৮তম মিনিটে) |
| হাইতির গোলরক্ষক | জনি… প্লাসিড |
| স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক | স্কট ম্যাকটমিনে |
| স্কটল্যান্ডের পূর্ববর্তী জয় | ১৯৯০ সাল (সুইডেনের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে) |
| হাইতির বিশ্বকাপ ইতিহাস | ১৯৭৪ সাল (প্রথমবার) এবং বর্তমান আসর (দ্বিতীয়বার) |
| পরবর্তী ম্যাচের সময় | আগামী ২০ জুন |
দ্বিতীয়ার্থে হাইতির প্রতিরোধ এবং সমতায় ফেরার ব্যর্থ চেষ্টা
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থে গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় হাইতি। দীর্ঘ বাহান্ন বছর পর বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাওয়া হাইতিয়ানরা খেলার দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে হাইতির খেলোয়াড় রুবেন প্রভিডেন্সের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে উইলसन ইসিডর স্কটল্যান্ডের জালে বল পাঠানোর চেষ্টা করেন, তবে স্কটিশ ডিফেন্ডারদের কঠোর নজরদারির কারণে তিনি সফল হতে পারেননি।
এরপর ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরার সহজ সুযোগ পায় হাইতি। দলের ফরোয়ার্ড ফ্রান্টজডি পিয়নেরো চমৎকার পজিশনে বল পেয়ে একটি জোরালো হেড করেন। কিন্তু তাঁর সেই হেডটি স্কটল্যান্ডের গোলপোস্টের বাম পাশ দিয়ে সামান্য দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে ওয়ানডে বা বহুজাতিক এই মঞ্চে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার জন্য হাইতির অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো এবং ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কটল্যান্ড।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র ও আগামী ম্যাচের সময়সূচি
‘সি’ গ্রুপের প্রথম পর্বের খেলা শেষে একটি জয় নিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ড। সমান ১ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল ও মরক্কো। আর কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানির দল হিসেবে রয়েছে হাইতি। আগামী ২০ জুন এই গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন জিলেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হবে শক্তিশালী মরক্কোর। একই দিনে ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
