বাংলাদেশ–নেপাল আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচে জোড়া গোল করেও দলকে জিততে পারলেন না হামজা চৌধুরী। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল বাংলাদেশ ২–১। কিন্তু যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে নেপালের কর্নার থেকে অনন্ত তামাংয়ের ফ্লিক শটে সমতা আসে। সেই সঙ্গে আবারও ইনজুরি টাইমের গোল খেয়ে পয়েন্ট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের।
Table of Contents
ম্যাচের গোলসংক্ষেপ
| সময় | দল | গোলদাতা | ধরণ |
|---|---|---|---|
| 32’ | নেপাল | রোহিত চাদ | ওপেন প্লে |
| 46’ | বাংলাদেশ | হামজা চৌধুরী | বাইসাইকেল কিক |
| 49’ | বাংলাদেশ | হামজা চৌধুরী | পেনাল্টি |
| +93’ | নেপাল | অনন্ত তামাং | কর্নার থেকে ফ্লিক |
প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের আক্রমণে ধার ছিল না। রাকিব ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ৩২ মিনিটে সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানার দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে রোহিত চাদের জোরালো শটে নেপাল ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
হামজার জোড়া গোল—একটি বাইসাইকেল কিক, একটি পেনাল্টি
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। কোচ ক্যাবরেরা সোহেল রানার জায়গায় সামিত সোমকে নামান। ঠিক পরের মিনিটেই ফাহিমের ক্রস জামালের পায়ে পড়ে, যেখান থেকে তিনি হালকা চিপ করে বল তুলে দেন হামজার উদ্দেশে। বাতাসে ভেসে উঠে বাইসাইকেল কিকে চমৎকার গোল করে দলকে সমতায় ফেরান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেস্টারে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার।
তিন মিনিট পর রাকিবকে বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি দেয় লঙ্কান রেফারি কাওসুন লাকমাল। নেপালি খেলোয়াড়রা আপত্তি তুললেও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। সেই সুযোগে হালকা শটে পেনাল্টি থেকে দলকে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হামজা।
ইনজুরি টাইমের অভিশাপ
৮০ মিনিটে হামজাকে তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশ মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারায়। নেপাল একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে, একটি শট ক্রসবারে লেগে ফেরতও আসে। শেষ পর্যন্ত ৯৩ মিনিটে কর্নার থেকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া হয়।
বাংলাদেশের জন্য ইনজুরি টাইমে পয়েন্ট হারানো নতুন কিছু নয়। হংকংয়ের বিপক্ষেও ৩–৩ সমতায় থাকা ম্যাচে শেষ সময়ে গোল খেয়ে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল লাল-সবুজরা।
দলের অবস্থা ও আসন্ন চ্যালেঞ্জ
এই ম্যাচটি মূলত ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতির অংশ ছিল। যদিও দীর্ঘ অনুশীলনের পরও প্রথমার্ধে দলকে সেভাবে সংগঠিত মনে হয়নি।
আজকের ম্যাচে কিউবা মিচেলের অভিষেক হয়েছে। প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় ছয়টি পরিবর্তন করার সুযোগ থাকলেও কোচ ক্যাবরেরা পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন—অনেক পরিবর্তন এসেছে দেরিতে। জায়ান ও হামজার হালকা চোটও চোখে পড়ে।
হামজার বাংলাদেশের হয়ে গোলসংখ্যা
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | গোল |
|---|---|---|
| প্রথম ম্যাচ | ভারত (২৫ মার্চ) | – |
| দ্বিতীয় গোল | ভুটান (৪ জুন) | ১ |
| তৃতীয় গোল | হংকং (৯ অক্টোবর) | ১ |
| চতুর্থ ও পঞ্চম | নেপাল (আজ) | ২ |
৫ ম্যাচে হামজার গোল সংখ্যা এখন ৪—এবং পারফরম্যান্সে তিনি দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়।
