“জাতীয় দলে চোট পেলে ক্লাবগুলো কি ক্ষতিপূরণ পায়? ফিফার এই বিশেষ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জানুন!”

ফুটবল ক্লাবগুলো জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল বিরতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা যদি চোট পান, তাহলে তাদের ক্লাবের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে, এই খেলোয়াড়রা ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেয়া অবস্থায় জাতীয় দলে গিয়ে ফিরলে অনেক সময় চোট নিয়ে ফেরেন। আর এর ফলে পরবর্তী কিছু ম্যাচে ক্লাবটি তাদের মূল খেলোয়াড়দের পায় না।

এই চ্যালেঞ্জটি অনেক ক্লাবের জন্য সাধারণ সমস্যা। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভালো ফলের জন্য ম্যাচ ও অনুশীলনে শীর্ষ খেলোয়াড়রা একত্রিত থাকাটা জরুরি, কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়দের ছাড়া বাধ্য হয়ে তাদের ক্লাবকে বেশ কিছু ম্যাচে তাদের ছাড়াই খেলতে হয়।

কিন্তু, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১২ সালে ফিফা, ক্লাবগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নতুন প্রোগ্রাম চালু করে, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলো কিছু ক্ষতিপূরণ পায়। এটি ক্লাব প্রটেকশন প্রোগ্রাম (সিপিপি) নামে পরিচিত।

ফিফার এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে, যদি কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় ২৮ দিনের বেশি সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান, তাহলে তার ক্লাব সেই খেলোয়াড়ের বেতন কিছুটা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, যদি একজন খেলোয়াড় সপ্তাহে ২০,০০০ পাউন্ড বেতন পান এবং জাতীয় দলে খেলার সময় চোট পেয়ে ১২ সপ্তাহ মাঠের বাইরে চলে যান, তবে ফিফা সেই ক্লাবকে ২,৪০,০০০ পাউন্ড প্রদান করবে।

২০২৩ সালে, ফিফার মতে, কোনো খেলোয়াড় যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য চোট পান, তবে সেই খেলোয়াড়ের ক্লাব প্রতি বছর প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো (১০৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। তবে এই পরিমাণ টাকা শুধুমাত্র খেলোয়াড়ের মূল বেতন মেটানোর জন্য প্রদান করা হবে, বোনাস বা চিকিৎসা খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়।

এছাড়া, ক্লাবগুলোকে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তা সবার জন্য সমান নয়। বড় তারকাদের, যেমন আর্লিং হলান্ড বা মোহাম্মদ সালাহ, চোট পেলে তাদের ক্লাব সেই খেলোয়াড়ের পুরো বেতন পেতে পারে না, কারণ ফিফা তাদের সর্বোচ্চ বেতন হিসেবে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়।

যদিও এই প্রোগ্রামটি বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের বেতন পূর্ণরূপে ক্ষতিপূরণ করে, তবে বড় তারকা এবং উচ্চ বেতন প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এটি একদম পুরোপুরি কার্যকর নয়। এছাড়া, ফিফার ক্ষতিপূরণের তহবিলও সীমিত, বছরে মাত্র ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত থাকে। তাই, যদি একসাথে অনেক খেলোয়াড় চোট পান, তবে ক্লাবগুলো সবসময় তাদের পুরো ক্ষতিপূরণ পাবে না।

এছাড়া, বয়সভিত্তিক ফুটবলে, যেমন অনূর্ধ্ব-২১ জাতীয় দল, এসব খেলোয়াড়দের জন্য ফিফা কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না।

এটি আলাদা একটি প্রকল্প। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর জন্য এই ক্লাব উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় ১০ হাজার ডলার প্রতিদিন বরাদ্দ করা হয়। ২০২২ বিশ্বকাপে, ফাইনাল খেলার জন্য নির্বাচিত ক্লাবগুলোকে প্রায় ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছিল।

ফিফার এই নতুন প্রোগ্রাম কিছুটা হলেও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক ফুটবল চোটে ক্ষতিপূরণের জন্য সহায়তা করে। তবে, বড় তারকা এবং উচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য এটি পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে সক্ষম নয়।

Leave a Comment