
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সব স্মৃতি মুছলেন কিউবা মিচেল
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম থেকে লাল-সবুজ জার্সি ও দেশ সম্পর্কিত সমস্ত ছবি ও পোস্ট মুছে ফেলেছেন তরুণ মিডফিল্ডার কিউবা মিচেল। কোচের একটি আকস্মিক সিদ্ধান্তের জেরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বের ফলেই ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই হঠাৎ পদক্ষেপে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আসন্ন ফিফা উইন্ডো ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মূল ক্যাম্পে কিউবা মিচেলকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করেননি জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। কোচের সাফ কথা, দলে জায়গা পেতে হলে তাকে প্রথমে ক্যাম্পের ট্রায়াল বা নির্বাচনী পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সম্প্রতি একটি ক্রীড়াভিত্তিক অনলাইন মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এই অবস্থানের পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ। তিনি জানান, মিচেলকে তিনি সরাসরি মাঠে খেলতে দেখেননি। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলে কাউকে না দেখে সরাসরি মূল স্কোয়াডে জায়গা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। কোচের স্পষ্ট যুক্তি ছিল, কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে পারফর্ম করতে না দেখলে তার সঠিক সক্ষমতা মাপা যায় না, যা জাতীয় দলের শৃঙ্খলার জন্য জরুরি।
কোচের এই কঠোর শর্তের বাইরেও দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্যের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে যাতায়াত বা ভ্রমণ খরচের বিষয়টি। অতীতে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনী ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য মিচেলকে নিজ দায়িত্বে এবং নিজের খরচে ভ্রমণ করতে বলা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই আর্থিক ও কাঠামোগত শর্ত নিয়েই মূলত খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের যুব একাডেমিতে একসময়ে ফুটবল পাঠ নেওয়া কিউবা মিচেল বর্তমানে ক্যারিয়ারের নতুন ধাপে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের নিচের সারির ক্লাব স্ট্র্যাটফোর্ড টাউন এফসিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ইউরোপের লিজেন্ডারি ক্লাব ফুটবলে বেড়ে ওঠা এই তরুণ প্রতিভা বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করার সম্ভাবনা জাগালেও, সাম্প্রতিক এই টানাপোড়েন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কোচের নজর কাড়তে তিনি শেষ পর্যন্ত ট্রায়ালে অংশ নেবেন নাকি অভিমান করে লাল-সবুজ অধ্যায় চিরতরে চুকিয়ে দেবেন, তা সময়ই বলে দেবে।