
জাপান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, সতর্ক বার্তা ব্রাজিল কোচের
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও জাপান। রাউন্ড অব থার্টি-টু-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি সেলেসাওদের জন্য কেবলই একটি সাধারণ ম্যাচ নয়, বরং এটি টিকে থাকার লড়াই। কারণ, নকআউটের এই মঞ্চে সামান্যতম ভুল করলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত। আর এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে প্রতিপক্ষ জাপানকে নিয়ে নিজের সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা জানিয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সেটি ব্রাজিল বেশ ভালো করেই জানে। এর পেছনে কাজ করছে দুই দলের সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ের এক তেতো অভিজ্ঞতা। গত অক্টোবর মাসে টোকিওতে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে শুরুতে দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু এশিয়ান পরাশক্তি জাপান সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় তারা।
অক্টোবরের সেই হার থেকে বড় শিক্ষা নিয়েছেন আনচেলত্তি। নকআউট ম্যাচের আগে সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “টোকিওর ওই ম্যাচটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি, জাপান বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল। তাদের খেলার ধরন এবং শৃঙ্খলা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা তাদের সামর্থ্যকে পুরোপুরি সম্মান করি। এই ম্যাচটিকে আমরা ফাইনাল মনে করেই মাঠে নামব, কারণ আমাদের কাছে এখন প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ফাইনাল।”
হিউস্টনের স্থানীয় সময় দুপুরবেলা এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচ এত সকাল বা দুপুরে খেলেনি ব্রাজিল। সাধারণত তীব্র গরম বা আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে দুপুরের ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়। তবে এই সূচি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন ব্রাজিলিয়ান মাস্টারমাইন্ড। আনচেলত্তি বেশ সহজভাবেই বিষয়টি সামলে নিয়ে বলেন, “সময়ের কারণে আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। সাধারণত আমরা এই সময়টাতেই নিয়মিত অনুশীলন করি। তাই মাঠের পারফরম্যান্সে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। দিনশেষে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ এবং আমাদের লক্ষ্য একটাই।”
ম্যাচ জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই কোচ। তিনি যোগ করেন, “আমাদের পুরো ৯০ মিনিট মাঠে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। জাপান অত্যন্ত গোছানো এবং কঠিন এক প্রতিপক্ষ। তারা খুব দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যেতে পারে। তাই মাঠে আমাদের পরিকল্পনা কী এবং আমরা ঠিক কী করতে চাই, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মনে কোনো অস্পষ্টতা থাকা চলবে না।”
দলের বর্তমান মানসিক অবস্থা নিয়ে আনচেলত্তি বেশ ইতিবাচক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর শিষ্যরা এই কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দল মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচই এক একটি কঠিন পরীক্ষা। এখানে সহজ বলে কিছু নেই।” এখন দেখার বিষয়, অক্টোবরের সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে পারে কিনা।