“জোড়া পেনাল্টি মিস, ব্রাজিলকে পরাজয়ের অজানা পথ দেখাল!”

কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ব্রাজিল ফুটবল দলের নতুন এক অধ্যায় শুরুর আভাস দেখা দিয়েছিল, তবে তা ধারাবাহিক হতে পারছে না। চলতি সময়ে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে রয়েছে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। একদিকে সেনেগালের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়, অন্যদিকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে কষ্টকর ড্র—এভাবেই চলছে তাদের যাত্রা।

গতকাল রাতে ফ্রান্সের লিলেতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। তবে, এমন ম্যাচে ২টি পেনাল্টি পেয়েও জয় তুলতে পারলো না সেলেসাওরা। প্রথমে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের তরুণ তারকা এস্তেভাও পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু পরে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে জয়ী গোল করতে ব্যর্থ হন লুকাস পাকেতা, যার কারণে শেষ পর্যন্ত ড্র করেই মাঠ ছাড়ে তারা।

আক্রমণ আর বল দখলে ছিল ব্রাজিল, তবে গোলের নষ্ট সুযোগ

ব্রাজিল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে। পুরো ম্যাচে তারা ৭৪% বল নিজেদের কাছে রেখে খেলেছে, যা একটি বড় পরিসংখ্যান। তবে সমস্যা ছিল আক্রমণের সামঞ্জস্যতা ও কার্যকারিতায়। ২২টি শটের মধ্যে মাত্র ৩টি শট ছিল লক্ষ্যে। এছাড়া, ব্রাজিলের আক্রমণকারীরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছেন, যার ফলে ম্যাচে লিড নিতে পারেননি তারা।

তিউনিসিয়া ম্যাচের ২৩ মিনিটে একটি দুর্দান্ত কনট্রা-অ্যাটাক থেকে এগিয়ে যায়। হাজেম মাসতৌরি, তিউনিসিয়ার আক্রমণভাগের অন্যতম শক্তি, তাদের হয়ে গোল করেন। এরপর ব্রাজিল আরও চাপ সৃষ্টি করলেও, লক্ষ্যভ্রষ্ট শট ও একের পর এক মিস করা সুযোগের কারণে সমতায় ফেরার সুযোগ পায়নি।

পেনাল্টি মিস, ব্রাজিলের ভাঙা মনোবল

ব্রাজিল ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল শোধ করতে সক্ষম হয়। রেফারি তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার ব্রুনের হাতে বল লাগার পর ভিএআর-এর সাহায্যে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। এস্তেভাও তখন দারুণ দক্ষতায় স্পট কিক থেকে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। এটি ছিল তার জন্য ব্রাজিলের জার্সিতে চতুর্থ গোল।

বিরতির পর, ব্রাজিল আবারও তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে, তবে গোল করার জন্য প্রয়োজনীয় ফিনিশিং ছেলেনি। ৭৬ মিনিটে, আবারও ব্রাজিলকে পেনাল্টি দেয় রেফারি, যখন ভিতো হক তিউনিসিয়ার ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন। তবে, পাকেতা পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেয়ে বল উড়িয়ে মেরে ফেলেন। সেই সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ার পর, ব্রাজিল আর গোলের দেখা পায়নি, এবং ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়।

ম্যাচের পরিসংখ্যান:

পরিসংখ্যানব্রাজিলতিউনিসিয়া
বল দখল (%)৭৪%২৬%
শটের সংখ্যা২২
লক্ষ্যভ্রষ্ট শট১৯
পেনাল্টি (স্কোর)১ (২)
গোল (চূড়ান্ত ফলাফল)

শেষ কথা:

এই ম্যাচে ব্রাজিলের খেলার মান অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। তাদের আক্রমণ এবং বল দখলের পরিমাণ যথেষ্ট হলেও, ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা স্পষ্ট। আনচেলোত্তির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষমতা অর্জন করা।

Leave a Comment