দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মার্কো জ্যানসেন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে একেবারে কাবু করে দিলেন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২০১ রান করে অলআউট হয়, ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৪৮৯ রান করে ২৮৮ রানের বড় লিড নেয়। জ্যানসেনের বাউন্সার এবং শর্ট-পিচিং ব্যাটসম্যানদের পুরোপুরি বিশৃঙ্খল করে দেয়।
জাহসওয়াল (৫৮) এবং ওয়াশিংটন সুন্দর (৪৮) হল ভারতীয় দলের একমাত্র উজ্জ্বল নোট। অন্যদিকে জ্যানসেন ৬–৪৮, এবং স্পিনার সাইমন হারমার ৩–৬৪ নিয়ে ভারতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেন।
প্রথম সেশনের পর ভারত ৯৫–১ থেকে ১২২–৭ দাঁড়ায়। ভারতের ব্যাটসম্যানরা আগের দিনের তুলনায় আরও ব্যর্থ হয়ে পড়ে, এবং সিরিজে সমতা আনার আশা মিলিয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
জ্যানসেনের বোলিংয়ে ভারতীয় ওপেনারদের ধাক্কা পড়ে। ধ্রুব জুরেল, রাবিন্দ্র জাডেজা, নিতিশ কুমার রেড্ডি এবং জাসপ্রিত বুমরাহ বাউন্সারে আউট হন। ইনিয়ান বোথামের জন্মদিনে জ্যানসেনের ছয় উইকেট ভারতীয় দলের জন্য ইতিহাসের মতো ধাক্কা হয়ে ওঠে।
মার্কো জ্যানসেন শুধুমাত্র দ্রুত বল করে নয়, শর্ট-পিচ এবং বাউন্সারের মাধ্যমে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছেন। প্রথমে কিছুটা আর্দ্রতার কারণে স্পিনারদের বল ঘুরছিল, তবে পরে জ্যানসেন পুরো খেলায় আধিপত্য বিস্তার করেন।
খেলায় জাহসওয়াল ও ওয়াশিংটন সুন্দরই ভারতকে কিছুটা সংযম ধরে রাখতে সাহায্য করেন। বিশেষ করে জাহসওয়ালের সেঞ্চুরি চেষ্টা এবং সুন্দর-এর ৪৮ রানের ইনিংসই একমাত্র উজ্জ্বল পয়েন্ট। কিন্তু জ্যানসেনের বাউন্সার এবং হারমারের স্পিন মিশ্রিত বোলিং ভারতের বাকি ব্যাটিং লাইনকে পূর্ণভাবে আটকে দেয়।
ক্যাপ্টেন রিষভ পান্ত চেষ্টা করেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার, কিন্তু জ্যানসেনের বোলিংয়ের সামনে অকার্যকর হন। ব্যাটসম্যানরা বাধ্য হন বাউন্সার এবং শর্ট বলের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করতে।
ম্যাচের ইনিংসের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| দল | ইনিংস | রান | উইকেট | সেরা পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|---|
| ভারত | 1ম ইনিংস | 201 | সবআউট | জাহসওয়াল 58, ওয়াশিংটন 48 |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | 1ম ইনিংস | 489 | – | জ্যানসেন 6-48 |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | 2য় ইনিংস (শেষ অবস্থা) | 26/0 | – | রিকেলটন 13*, মার্করাম 12* |
