ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা। এর মাধ্যমে স্প্যানিশ ক্লাবটি টানা ষষ্ঠবারের মতো এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠল। নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফরাসি ক্লাব লিওঁ।
প্রথম লেগে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ছিল নির্ধারক। ওই ম্যাচে বায়ার্ন শেষদিকে একজন কম নিয়ে খেলেও সমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় লেগে উভয় দলই পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামে।
৬০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথমে আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই সালমা পারাউয়েলোর গোলের মাধ্যমে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে খুব বেশি সময় পিছিয়ে থাকেনি বায়ার্ন। লিন্ডা ডালমান দ্রুত সমতাসূচক গোল করে ম্যাচে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বার্সেলোনা। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আলেক্সিয়া পুতেয়াস দুই দফায় গোল করে ব্যবধান বাড়ান। তার দুই গোলের মাঝেই ইওয়া পাহোর একটি গোল যুক্ত হলে বার্সেলোনা ম্যাচে দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্ন মিউনিখ লড়াই চালিয়ে যায়। পার্নিলে হার্ডার ম্যাচের শেষদিকে একটি গোল করে ব্যবধান কমান এবং ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। জার্মান দলটি একাধিকবার আক্রমণ চালিয়ে গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া হার্ডারের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় ধরে রেখে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে তাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই ছিল নির্ধারক।
এই ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে আইতানা বোনমাতির প্রত্যাবর্তনের কারণে। টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মিডফিল্ডার দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে আবার মাঠে ফেরেন, যা দলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিযোগিতা | উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগ (সেমিফাইনাল) |
| ভেন্যু | ক্যাম্প ন্যু |
| ফলাফল | বার্সেলোনা ৪-২ বায়ার্ন মিউনিখ |
| প্রথম লেগ | ১-১ |
| মোট ফলাফল | বার্সেলোনা এগিয়ে |
| বার্সেলোনার গোলদাতা | সালমা পারাউয়েলো, পুতেয়াস (২), পাহো |
| বায়ার্নের গোলদাতা | ডালমান, হার্ডার |
| ফাইনালের প্রতিপক্ষ | লিওঁ |
| ফাইনালের স্থান | অসলো |
এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় নারী ফুটবলে নিজেদের ধারাবাহিকতা ও শক্তিমত্তা আবারও প্রমাণ করল বার্সেলোনা।
