টানা সেমিফাইনালে আর্সেনাল, উপভোগের আহ্বান আরতেতার

এমিরেটস স্টেডিয়ামে গোলশূন্য এক ম্যাচের মধ্য দিয়েই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে ০-০ ড্র করলেও প্রথম লেগে ১-০ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিকেল আরতেতার দল। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো টানা দুই মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উঠল ক্লাবটি।

ফিরতি লেগে আক্রমণে সফলতা না এলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি আর্সেনাল কোচ। বরং মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সমর্থকদের জন্য উপভোগ্য হওয়া উচিত।

প্রিমিয়ার লিগেও আর্সেনালের অবস্থান দৃঢ়। ৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও তাদের একটি ম্যাচ কম খেলা। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে একমাত্র অপরাজিত দলও আর্সেনাল।

তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটিতে পরাজয় এবং মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে দলটি। ফিরতি লেগে গোলশূন্য ড্রয়ের পারফরম্যান্সও সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত কয়েক মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থাকায় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

তবুও বর্তমান মৌসুমে আর্সেনালের সামনে রয়েছে দুটি বড় সুযোগ—২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সম্ভাবনা এবং প্রথমবারের মতো ইউরোপসেরা হওয়ার সম্ভাবনা। এই প্রেক্ষাপটে আরতেতা দলের লড়াইয়ের মানসিকতাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতেও দল কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পেরেছে, যা তাদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।

চোটের কারণে বুকায়ো সাকা, মার্টিন ওডেগার্ড ও জুরিয়েন টিম্বারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল আর্সেনালকে। এছাড়া অনুশীলনে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকলেও ডেক্লান রাইসের খেলায় অংশগ্রহণকেও প্রশংসা করেছেন কোচ। সাম্প্রতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাইরের মূল্যায়ন অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না।

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ থেকে এবার চারটি ভিন্ন দেশের চারটি ক্লাব সেমিফাইনালে উঠেছে। ইতালির কোনো ক্লাব শেষ চারে জায়গা করতে পারেনি। জার্মানি থেকে বায়ার্ন, ফ্রান্স থেকে পিএসজি, স্পেন থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ইংল্যান্ড থেকে আর্সেনাল সেমিফাইনালে রয়েছে। এদের মধ্যে কেবল আর্সেনালই পুরো প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত অপরাজিত।

লিগ পর্বে ৮ ম্যাচের সবগুলো জিতে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় ওঠে আর্সেনাল। সেখানে বায়ার লেভারকুসেনকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় তারা। এরপর স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

নিচে আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রার সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

ধাপপ্রতিপক্ষফলাফল
লিগ পর্ব৮ ম্যাচে ৮ জয়
শেষ ষোলোবায়ার লেভারকুসেনড্র + ২-০ জয়
কোয়ার্টার ফাইনালস্পোর্তিং১-০ জয় + ০-০ ড্র

বর্তমান অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে আরতেতা সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ক্লাব যে অবস্থানে রয়েছে, সেটি উপভোগ করা উচিত। তার মতে, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের ভিত্তি।

Leave a Comment