আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তার মতে, এখনও ভারত কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি, তবে সঠিক প্রস্তুতির জন্য সময় যথেষ্ট আছে। ‘bcci.tv’-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি ফিটনেসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,
“আমাদের ড্রেসিং রুমে সব সময় খোলামেলা ও সৎ পরিবেশ বজায় থাকে। আমরা এখনও আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। তবে খেলোয়াড়রা যদি ফিটনেসের গুরুত্বটা বুঝে কাজ করে, তাহলে আগামী তিন মাসেই আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।”
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। স্বাগতিক ভারত এবার ট্রফি ডিফেন্ড করতে নামবে, তাই গম্ভীরের কাছে লক্ষ্য স্পষ্ট — দলকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় বিশ্বমঞ্চে নামানো। তিনি আরও বলেন,
“আমার কোচিং দর্শনের বড় অংশ হলো খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক দৃঢ়তা যাচাই করা। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, কাউকে যদি গভীর জলে ফেলে দেওয়া যায়, তখনই বোঝা যায় কে কতটা সাঁতার কাটতে পারে।”
তরুণদের প্রতি গম্ভীরের আস্থা
গম্ভীর উদাহরণ টানেন তরুণ অধিনায়ক শুভমন গিলের। টেস্ট দলের নেতৃত্বে গিলকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে তিনি তরুণদের প্রতি বিশ্বাস রাখার উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
“যুবাদের দায়িত্ব দিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা দরকার। তবেই বোঝা যায় কে কতটা চাপ সামলাতে পারে। গিল সেই আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে,” বলেন গম্ভীর।
গিলের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ২-২ ড্র করে ভারত। প্রতিটি ম্যাচই ছিল রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় ভরা, যেখানে ভারত শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় গিলের ভারত।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজে ১-২ ব্যবধানে হার গিলের নেতৃত্বের তিক্ত স্মৃতি হয়ে আছে। এখন ভারত প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের হোম টেস্ট সিরিজের জন্য, যার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতি
দক্ষিণ আফ্রিকা দল ইতোমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা বেঙ্গালুরুতে ভারত ‘এ’-র বিপক্ষে একটি আনঅফিসিয়াল টেস্ট খেলার পর যোগ দিয়েছেন মূল দলে। দলের স্থানীয় ম্যানেজার জানিয়েছেন, রবিবার থেকেই পুরো স্কোয়াড হোটেলে উঠেছে। আজ সোমবার দল বিশ্রামে থাকলেও, মঙ্গলবার থেকে দুই দলই ইডেন গার্ডেন্সে অনুশীলন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গম্ভীরের স্পষ্ট বার্তা,
“টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ফর্ম এবং মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা শেষ করতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যেই। এরপর যে এগিয়ে থাকবে, তাকেই দেখা যাবে বিশ্বকাপ দলে।”
ভারতের কোচের এই ঘোষণার পর, এখন চোখ থাকছে আগামী তিন মাসে — কে গম্ভীরের আস্থা অর্জন করতে পারেন এবং কারা বাদ পড়বেন এই বিশ্বকাপের দৌড় থেকে।
